সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন ভারতের পেসার মোহাম্মদ শামি। শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও দিয়ে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী শামি ২০১৩ সালের নভেম্বরে টেস্ট অভিষেকের স্বাদ পেয়েছিলেন, সেই সিরিজ দিয়েই আবার কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার অবসরে গিয়েছিলেন।
অভিষেকেই বোঝা গিয়েছিল, শামি কতটা ভয়ংকর হতে পারেন। স্টাম্প লক্ষ্য করে বল করা ছিল তার শক্তি। সে ম্যাচেই তিনি ৯ উইকেটের ৭টি পেয়েছিলেন বোল্ড বা এলবিডব্লিউ থেকে। সিম সোজা রাখার সহজাত দক্ষতাও ছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তিনি দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১৮ রানে নেন ৯ উইকেট। আজও এটি তার সেরা বোলিং। রিভার্স সুইংয়ের কারণে এই পারফর্ম্যান্স আরও আলাদা হয়ে আছে।
ভারতের হয়ে শামি ৬৪টি টেস্ট খেলেছেন। উইকেট নিয়েছেন ২২৯টি। ভারতের ইতিহাসের সেরা পাঁচ পেসারের তালিকার ঠিক বাইরে আছেন তিনি।
টেস্ট অভিষেকের বার্ষিকীতে নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন শামি। সেখানে তিনি বলেন, ‘এই ১৩ বছরের যাত্রায়, এই ক্যাপ, এই বল আমাকে মোহাম্মদ শামি বানিয়েছে। উত্থান-পতন সবই ছিল। আমি পড়েছি, ব্যথা পেয়েছি, চোটও পেয়েছি। কিন্তু এই ব্যাজের জন্য আমি আবার উঠে দাঁড়িয়েছি। তাই এই ১৩ বছরের যাত্রা খুব ভালো কেটেছে। আমার কোচ, ট্রেনার, ফিজিও এবং যারাই সামান্য অবদান রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে ভক্তদের। ক্রিকেটভক্তরা এই নামটি যেভাবে গড়েছেন, এই নামটাকে যে উৎসাহ দিয়েছেন, তা সব সময় মনে থাকবে। আপনাদের সবাইকে সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ। ক্রিকেটের প্রতি যাদের এত ভালোবাসা ছিল, আর এই নামকে এতদূর পৌঁছে দিয়েছেন, সেই সব ভক্তকে। আমি এটা (টেস্ট ক্যাপ) পেয়েছিলাম ৬ নভেম্বর, আর আজও ৬ নভেম্বর। তাই এই ১৩ বছরের যাত্রা আজই শেষ করা যাক। আজই আমি অভিষিক্ত হয়েছিলাম, আর আজই অবসর নিচ্ছি।’
শামি আরও বলেন, ‘আমি এটা ছেড়ে যাচ্ছি, তবে সাদা বলের ক্রিকেট খেলে যাব। আইপিএল হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেট। ফিটনেসের জন্য দরকার হলে দিনের খেলাও (প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট) খেলব। কিন্তু আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে নয়। এই ছিল এত দিনের যাত্রা। আজই শুরু করেছিলাম, আজই শেষ করছি।’
এই ঘোষণার ফলে ২০২৩ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালটাই হয়ে রইল শামির শেষ টেস্ট ম্যাচ। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২০৯ রানে হেরে শিরোপার আশা শেষ হয় ভারতের।
অবসর নেওয়ার সময় শামির বোলিং গড় ২৭.৭১। স্ট্রাইক রেট ৫০.২। ভারতের মাটিতে তার গড় ২২.১ এবং প্রতি ৪২.৬ বলে একটি উইকেট। দেশের মাঠে তার চেয়ে ভালো স্ট্রাইক রেট আছে আর মাত্র তিনজন বোলারের।
উত্তর প্রদেশের পশ্চিম অংশের আমরোহায় জন্ম শামির। ক্রিকেট খেলার সুযোগ খুঁজতে তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন। সেই সুযোগ তিনি পান বাংলায় গিয়ে। ২০১০ সালের নভেম্বরে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় তার। এখনো তিনি বাংলার হয়ে খেলছেন। এ সপ্তাহের শুরুতে বাংলার সর্বশেষ ম্যাচেও তিনি দলে ছিলেন। আইপিএলে তিনি সবশেষ খেলেছেন লখনৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে।
