লালপুরে যুব উন্নয়নের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ
ভাতার টাকা কেটে অডিট কর্মকর্তাদের নাশতা
Advertisement
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লালপুরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৪০ প্রশিক্ষণার্থীর ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রশিক্ষণার্থীদের প্রাপ্য টাকা থেকে অডিট কর্মকর্তাদের নাশতা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন খরচের কথা বলে জনপ্রতি ৬২০ টাকা করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। সোমবার দুপুরে প্রশিক্ষণ শেষে ৪০ প্রশিক্ষণার্থীকে জনপ্রতি ১১ হাজার ৭০০ টাকা করে দেওয়া হয়। ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিয়ে যাতায়াত ও নাশতা বাবদ প্রত্যেকের ১২ হাজার ৩২০ টাকা বরাদ্দ ছিল।
জানা গেছে, ‘টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস ফর আন্ডারপ্রিভিলেজড রুরাল ইয়ংপিপল অব বাংলাদেশ (টেকাব ২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট খাতে মোট ৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুই মাসের প্রশিক্ষণে উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার টাকা, ব্যানার ও প্রচার-প্রচারণার জন্য ৫ হাজার এবং প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিদিন যাতায়াত ভাতা বাবদ ২০০ টাকা ও নাশতার জন্য ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ১০০ টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার পর প্রশিক্ষণের সময় নাশতা না দিয়ে নাশতার টাকা প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতার সঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, তাদের ভাতার টাকা থেকে প্রশিক্ষক ও অডিট কর্মকর্তাদের যাতায়াত ভাড়া, নাশতা, সমাপনী অনুষ্ঠান ও দুপুরের খাবার ব্যবস্থা এবং ব্যানারের খরচ দেখিয়ে বাধ্যতামূলক ৬২০ টাকা করে কেটে রাখা হয়েছে। ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিয়ে দুই মাসে একজন প্রশিক্ষণার্থীর মোট পাওনা দাঁড়ায় ১২ হাজার ৩২০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে তাদের দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৭০০ টাকা করে।
প্রশিক্ষণার্থী মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে, প্রশিক্ষক ও অডিট কর্মকর্তাদের যাতায়াত, নাশতা এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের খরচের জন্য জনপ্রতি ৬২০ টাকা করে কেটে রাখা হয়েছে। যদিও অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থী টাকা দিতে সম্মতি প্রকাশ করেছিলেন, তবে কয়েকজন এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। আরেক প্রশিক্ষণার্থী সজিবুল ইসলাম অন্তর বলেন, প্রশিক্ষক ও অডিট কর্মকর্তাদের যাতায়াত ভাড়া ও নাশতার খরচ এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ না থাকায় খাবারসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য জনপ্রতি ৬২০ টাকা করে কেটে রাখা হয়েছে। পরে আমাদের প্রত্যেককে একটি খামের ভেতর ১১ হাজার ৭০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কম্পিউটার প্রশিক্ষক তাইজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ১০০ টাকা করে নাশতার বরাদ্দ আছে। সেখানে ভ্যাট-ট্যাক্স কাটার পরে ৮০ টাকা করে পাওয়ার কথা। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, নাশতার টাকা প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতার সঙ্গে দেওয়ার হবে।
এ বিষয়ে নাটোর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এটিএম গোলাম মাহবুব প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা না বলে মন্তব্য করতে রাজি হননি। লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবির হোসেন (সহকারী কমিশনার ভূমি) বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
