রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এবার ১০০ কোটি টাকার ওষুধ আনলেন ডা. আজাদ
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এবার প্রায় ১শ কোটি টাকার বিদেশি ওষুধ অনুদান এসেছে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ থেকে এই ওষুধগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনটি পৃথক চালানে দেশে আসা এসব ওষুধ ইতোমধ্যে রামেক হাসপাতালে পৌঁছেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিন চালানে প্রাপ্ত ওষুধগুলোর মোট মূল্য ৭৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে একই সংস্থা থেকে বাতের রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩৬ কোটি টাকার ইনজেকশন বিনামূল্যে এনেছিলেন ডা. আজাদ। তারও আগে আগস্টে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ান হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৭ কোটি টাকার অ্যাল্টেপ্লেস সংগ্রহ করেছিলেন।
ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগের ফলে রামেক হাসপাতালে দরিদ্র রোগীরা ভীষণ উপকৃত হচ্ছেন। সহায়তায় এগিয়ে আসা ডিরেক্ট রিলিফ একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে থাকে। সংস্থাটি সরাসরি অর্থ সহায়তা না দিয়ে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করে।
ডা. আজাদ জানান, এবারের ওষুধ সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শামীম হায়দার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওষুধগুলো দেশে আনার অনুমোদন দিয়েছেন।
সোমবার রাতে হাসপাতালের স্টোরে প্রায় দেড় হাজার বক্স ডুপিলুম্যাব এবং ১৫০ বক্স সারিলুম্যাব ইনজেকশন এসে পৌঁছে। ডুপিলুম্যাব ইনজেকশন রিফ্র্যাক্টরি অ্যাজমা, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), রিফ্র্যাক্টরি অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস, ক্রনিক রিফ্র্যাক্টরি আর্টিকারিয়া, পেমফিগাস ও পেমফিগয়েড রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে সারিলুম্যাব ইনজেকশন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, জায়ান্ট সেল আর্টারাইটিস এবং পলিআর্টিকুলার জুভেনাইল আইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় কার্যকর।
এছাড়া বুধবার ঢাকায় থাকা চালানের সঙ্গে ইনহেলার স্যালমেটেরল-ফ্লুটিকাসন, সেফডিনির সিরাপ, ল্যাবেটালল, আরলোটিনিব, আর্সেনিক ট্রাইঅক্সাইডসহ আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ রাজশাহীতে পৌঁছে। এর আগে গত সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্টর এইট ও ডোসেট্যাক্সেল ইনজেকশনও গ্রহণ করেছে। ডোসেট্যাক্সেল একটি কেমোথেরাপি ওষুধ, যা ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
ডা. আজাদ বলেন, তিন চালানে পাওয়া এসব ওষুধের মোট মূল্য প্রায় ৯৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের এসব ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে গত শনিবার থেকে হিমোফিলিয়া রোগীদের ফ্যাক্টর এইট দেওয়া শুরু হয়েছে এবং ক্যানসার রোগীদের ডোসেট্যাক্সেল ইনজেকশন প্রদান করা হচ্ছে। অন্যান্য ওষুধও রোগী অনুযায়ী ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ব্যয়বহুল এসব ওষুধ বিনামূল্যে পেয়ে রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। এমআইএসের র্যাংকিং অনুযায়ী রামেক হাসপাতাল গত আড়াই বছর দেশের সেরা হাসপাতালের অবস্থান ধরে রেখেছে। এই হাসপাতালকে একটি সেন্টার অব এক্সেলেন্সে রূপান্তর করতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
