Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

আলোকিত সমাজ গড়তে বইপড়ার বিকল্প নেই: আবদুল হাই শিকদার

Icon

তেজগাঁও (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আলোকিত সমাজ গড়তে বইপড়ার বিকল্প নেই: আবদুল হাই শিকদার

রাজধানীর বেরাইদ গণপাঠাগারের পক্ষ থেকে শুক্রবার ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর জীবন ও কর্মের ওপর আয়োজিত সেমিনারে যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। পাশে ড. শহীদুল্লাহর নাতনি শান্তা মারিয়াসহ অতিথিরা -যুগান্তর

জ্ঞানভিত্তিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও আলোকিত সমাজ গঠনে বইপড়ার বিকল্প নেই। এজন্য পাঠক তৈরি করতে হবে। এই কাজটি সুন্দরভাবে করার ক্ষমতা রাখে সাধারণ গ্রন্থাগার। এজন্য বেশি সংখ্যায় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গ্রন্থাগার টিকিয়ে রাখার জন্য এসবের আধুনিকায়ন করতে হবে, পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। তাহলেই সমাজ টিকে থাকবে, সভ্যতার চাকা ঘুরবে, সামনে এগিয়ে যাবে। শুক্রবার সকালে ঢাকা উত্তর সিটির ৪২নং ওয়ার্ডে বেরাইদ গণপাঠাগার আয়োজিত সেমিনারে দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেছেন। সেমিনারের প্রতিপাদ্য ‘আজও প্রাসঙ্গিক জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।’ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে বেরাইদে গণসংবর্ধনার ৯৩ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বেরাইদ গণপাঠাগার (বেগপা) এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এম খালিদ মাহমুদ।

সেমিনারে লিখিত নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নাতনি শিক্ষাবিদ ও কবি শান্তা মারিয়া। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি ও বেরাইদ গণপাঠাগারের সভাপতি এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন সাংবাদিক ইব্রাহীম খলিল জুয়েল, অধ্যাপক শম্ভুনাথ হালদার, শিক্ষক কনকপ্রভা দাস, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সিফাত মোসাদ্দেক ভূঁইয়া, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। পৃষ্ঠপোষকতা করে আবদুর রউফ ভূঁইয়া (এআরবি) ফাউন্ডেশন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি আবদুল হাই শিকদার আরও বলেন, আমার শৈশবে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কুড়িগ্রামে আমাদের স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন। আমি তখন খুব ছোট। তাকে সামনাসামনি দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্রমবিকাশে এই মনীষীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আদর্শ আমাদের পাথেয়। তরুণ প্রজন্মকে অবশ্যই তা মনে রাখতে হবে, ধারণ করতে হবে। আজ থেকে ৯৩ বছর আগে বেরাইদবাসী ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে গণসংবর্ধনা দিয়ে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইতিহাস খুঁড়ে এই তথ্য ও মানপত্র তুলে আনার জন্য বেরাইদ গণপাঠাগার ও আর্কাইভের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। আমরা বেরাইদ গণপাঠাগারের পাশে আছি।

সভাপতির বক্তব্যে এম খালিদ মাহমুদ বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান হলেও ৯৩ বছর আগে জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে ঐতিহ্যবাহী বেরাইদ মুসলিম হাইস্কুল মাঠে গণসংবর্ধনা প্রদানের তথ্য আমার জানা ছিল না। আজ প্রথম জানলাম। বেরাইদ গণপাঠাগার ও আর্কাইভ সঠিক কাজটিই করেছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ।

সঞ্চালক এমদাদ ভূঁইয়া বলেন, ভবিষ্যতে বেরাইদ গণপাঠাগারে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ স্মরণে তিনটি কর্নার খোলা হবে। বর্তমানে প্রয়াত কবি সাযযাদ কাদির ও শিশুদের জন্য ‘শিশু’ নামে দুটি কর্নার রয়েছে। অনুষ্ঠানে বেরাইদ গণপাঠাগারের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি কবি আবদুল হাই শিকদারের হাতে ‘গ্রন্থসুহৃদ’ এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি এম খালিদ মাহমুদ ও প্রবন্ধ উপস্থাপক শিক্ষাবিদ শান্তা মারিয়ার হাতে ‘গ্রন্থাগার সুহৃদ’ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন সংগঠক এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া।

দ্বিতীয় পর্বে ফিতা কেটে বেগপার দেওয়াল পত্রিকা ‘স্বজন সাহিত্যপত্র’র প্রথম সংখ্যা উন্মোচন এবং ‘যুগান্তর স্বজন সমাবেশ বেরাইদ শাখা’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .