একই কর্মস্থলে বারবার পদায়ন
তোপের মুখে বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
সৌরভ মাহমুদ হারুন, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা)
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ঘুস গ্রহণ, শিক্ষক নিয়োগ-বাণিজ্য, এমপিওভুক্তিতে অনিয়ম, শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিদ্যালয় পরিদর্শনের নামে অর্থ আদায়, একই কর্মস্থলে বারবার পদায়ন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে।
অভিযোগ রয়েছে, একজন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা হয়েও আব্দুল মান্নান কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়ায় তিনটি ফ্ল্যাট ও দুটি প্লটের মালিক। স্থানীয়রা বলছেন, ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বুড়িচংয়ে দায়িত্ব পালনের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি আবারও একই উপজেলায় ফিরে আসেন। পরে ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল পুনরায় বুড়িচংয়ে যোগদান করেন। একই কর্মস্থলে বারবার পদায়নের কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয়দের মধ্যে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালে বুড়িচং কালীনারায়ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্ত্রী খন্দকার উম্মে সালমাকে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা পদে নিয়োগে প্রভাব খাটান আব্দুল মান্নান। অভিযোগকারীদের দাবি, যোগ্যতা ও কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও প্রভাব বিস্তার করে তিনি স্ত্রীর নিয়োগ এবং পরে এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করেন।
জামাল মামুন নামে এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকতার চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী অর্থ নেওয়া হলেও চাকরি দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদনের জন্য গেলে আব্দুল মান্নান বলেন, বিএনপির কারও নাম নিয়ে আমার কাছে আসবেন না। পরে অন্য একজনের নাম প্রস্তাব করার পর অনুমোদন দেওয়া হয়।
আরেক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তা বিদায়ের সময় ‘খাম’ বা ‘তেল খরচ’ বাবদ প্রায় ৫ হাজার টাকা প্রত্যাশা করেন। টাকা না দিলে বা দিতে দেরি হলে বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে হয়রানি করান। বুড়িচংয়ের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে আব্দুল মান্নানের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। এখন আবার একই উপজেলায় ফিরে আসায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অনেকেই বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমার চাকরি আর বেশি দিন নেই।’ তিনি আরও বলেন, জামাল মামুন নামে কাউকে আমি চিনি না। এসব অভিযোগই কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। নিয়োগের বিষয় হলো বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির লোকজনের। আমি সরকারি চাকরি করি। আমাদের একটা বাইন্ডিং রয়েছে। এর বাইরে যাওয়া যায় না। কুমিল্লা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
