Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

ঢাকা মেডিকেল কলেজ

ক্যাথল্যাব বন্ধে বিপাকে হৃদরোগীরা

Advertisement

Icon

জাহিদ হাসান ও মো. জহিরুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাথল্যাব বন্ধে বিপাকে হৃদরোগীরা

ফাইল ছবি

Advertisement

হৃদরোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এনজিওগ্রাম। কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এ সেবাই এখন বড় সংকটে। কার্ডিওলজি বিভাগের দুটি ক্যাথল্যাবের একটিও বর্তমানে সচল নেই। একটি দীর্ঘদিন ধরেই অকেজো। অন্যটি মেরামত করে চালানো হলেও প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ।

এতে বিকল্প হিসাবে পুরোনো ভবনের নিউরোমেডিসিন বিভাগের ‘নিউরো ক্যাথল্যাব’ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে সপ্তাহে মাত্র একদিন বুধবার, হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম করা হয়। ওই দিন ২০ থেকে ২৫টি পরীক্ষা করা সম্ভব হয়। রোগীর চাপের তুলনায় এ সেবা অপ্রতুল। অনেক রোগীকে সিরিয়ালের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেককেই এনজিওগ্রামের জন্য হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে।

চিকিৎসকদের মতে, সংকট শুধু এনজিওগ্রামে সীমাবদ্ধ নয়। এনজিওগ্রামের পর প্রয়োজন হলে রিং বা স্টেন্ট বসানোর ব্যবস্থাতেও রয়েছে বড় ঘাটতি। রিং, প্রয়োজনীয় ওষুধ, অ্যাক্সেসরিজ, মেশিনপত্র ও দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে।

জানা গেছে, ঢামেকের কার্ডিওলজি বিভাগে শুরু থেকেই দুটি ক্যাথল্যাব ছিল। কিছুদিন চলার পর একটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে দ্বিতীয় ক্যাথল্যাব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। সেটিও নষ্ট হলে মেরামত করে চালু করা হয়। কিন্তু কয়েক মাস ধরে সেটিও বন্ধ। পুরোনো ভবনের নিউরোমেডিসিন বিভাগের ক্যাথল্যাবে সপ্তাহের একদিন এনজিওগ্রাম করা হচ্ছে। এতে সিরিয়ালের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।

এনজিওগ্রামের সিরিয়ালের অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারীবাগের নিরঞ্জন। তিনি বলেন, ‘১৫ দিন ধরে ভর্তি রয়েছি এনজিওগ্রাম করানোর জন্য। এখনো সিরিয়াল পাইনি। পুরোনো ভবনের ক্যাথল্যাবে সিরিয়াল দিয়েছি।’ লাকসাম থেকে আসা মো. ইউনুস তিন সপ্তাহ ধরে ভর্তি। তিনিও এখনো এনজিওগ্রামের সিরিয়াল পাননি। তার প্রশ্ন, ‘দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, এর দায়ভার কে নেবে?’

কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, এনজিওগ্রাম করা গেলেও পরবর্তী ধাপে রিং বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবলের সংকট রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু ‘কন্ট্রাস্ট ডাই’ (হার্টের এক্স-রে বা ইমেজিং টেস্টে রক্তনালিগুলোকে দৃশ্যমান করতে একধরনের তরল পদার্থ) সরবরাহ রয়েছে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি রয়েছে।

ঢামেকের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান নোমান যুগান্তরকে বলেন, দুটি ক্যাথল্যাব চালু থাকার সময় মাসে ১৫০ থেকে ২০০টি এনজিওগ্রাম করা যেত। এখন ৭০ থেকে ৮০টির মতো করা যাচ্ছে। সপ্তাহে একদিন নিউরোমেডিসিনের ক্যাথল্যাব ব্যবহার করে ২০ থেকে ২৫টি এনজিওগ্রাম করা হচ্ছে। এতে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রিং ও পরবর্তী চিকিৎসা প্রসঙ্গে এই চিকিৎসক বলেন, শুরু থেকেই এখানে রিং বা স্টেন্টের সরকারি সরবরাহ ছিল না। বাইরে থেকে কিনে আনতে হতো। বর্তমানে রিং, ওষুধপত্র, অ্যাক্সেসরিজ, মেশিনপত্র ও জনবল-সব ক্ষেত্রেই সংকট রয়েছে। শুধু ক্যাথল্যাব মেরামত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ঢামেকে এনজিওগ্রামের নির্ধারিত খরচ ২ হাজার টাকা। বাইরে করতে গেলে রোগীকে কয়েকগুণ বেশি খরচ করতে হয়। ফলে সরকারি হাসপাতালে সেবা নিশ্চিত না হলে সাধারণ রোগীদের ওপরই বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে।

৩৪ শয্যার সিসিইউর ১২টিতে মনিটর নেই : কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে বর্তমানে ৩৪টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টিতে রোগী থাকেন। একটি জরুরি রোগীর জন্য রাখা হয়। আগে ছিল ১৭টি শয্যা। পরে আরও ১৭টি যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু নতুন ১৭টির মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে মনিটর রয়েছে। বাকি ১২টিতে মনিটর নেই। ২৪ ঘণ্টায় ইন্ডোরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ রোগী চিকিৎসা নেন। আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ রোগী আসেন। ইসিজি সেবা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকলেও ট্রপোনিন-আই (হৃৎপেশীর কোষে থাকা একটি বিশেষ প্রোটিন) পরীক্ষা হয় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

রোগীর চাপ বিবেচনায় কার্ডিওলজি বিভাগ থেকে আরও ২২০টি শয্যার চাহিদা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি সিসিইউ, ৫০টি পোস্ট-সিসিইউ, ২০টি এইচডিইউ, পুরুষদের জন্য ৫০টি, নারীদের জন্য ৪০টি এবং শিশু কার্ডিওলজির জন্য ১০টি বেড রয়েছে। বর্তমানে আলাদা শিশু কার্ডিওলজি সুবিধাও নেই।

অন্য বিভাগের ক্যাথল্যাবে চাপ : পুরোনো ভবনের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফরহাদ বলেন, নিউরোসার্জারি বিভাগের ক্যাথল্যাব এমনিতেই রোগীর চাপে থাকে। এর মধ্যে প্রতি বুধবার কার্ডিওলজি বিভাগের ২০ থেকে ২৫ রোগীর এনজিওগ্রাম করতে হচ্ছে। এতে তাদের নিজস্ব সেবাতেও সমস্যা হচ্ছে।

এসব বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ক্যাথল্যাবের যন্ত্রাংশ ঢাকায় চলে এসেছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে ল্যাবটি রোগীদের সেবায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘আজও (রোববার) ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলব। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য শক্তভাবে নির্দেশ দেওয়া হবে।’

তবে চিকিৎসকদের মতে, শুধু ক্যাথল্যাব সচল করলেই হবে না। এনজিওগ্রাম থেকে রিং বা স্টেন্ট বসানো পর্যন্ত পুরো চিকিৎসাব্যবস্থা সচল করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ওষুধ ও জনবল নিশ্চিত করাও জরুরি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

২৬ সদস্যের ১২ জনই ছাত্রলীগ নেতা

ঢামেক ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন ২৬ সদস্যের ১২ জনই ছাত্রলীগ নেতা

চকবাজারে ৭ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

চকবাজারে ৭ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

ঢামেক হাসপাতালে দুই কারাবন্দির মৃত্যু

ঢামেক হাসপাতালে দুই কারাবন্দির মৃত্যু

ঢাকা মেডিকেলে আনা আরেক কারাবন্দির মৃত্যু

ঢাকা মেডিকেলে আনা আরেক কারাবন্দির মৃত্যু

ঢামেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক ফরহাদ হোসেন

ঢামেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক ফরহাদ হোসেন

একদিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩ বন্দির ঢামেকে মৃত্যু

একদিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩ বন্দির ঢামেকে মৃত্যু

আরও পড়ুন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাথল্যাব বন্ধে বিপাকে হৃদরোগীরা

ক্যাথল্যাব বন্ধে বিপাকে হৃদরোগীরা

হিলিতে মাচায় অসময়ের তরমুজ, খুশি কৃষক

হিলিতে মাচায় অসময়ের তরমুজ, খুশি কৃষক

শেবাচিম হাসপাতাল পাঁচ হাজার রোগীর জন্য মাত্র ১৩টি ট্রলি

পাঁচ হাজার রোগীর জন্য মাত্র ১৩টি ট্রলি

ঠাকুরগাঁওয়ে নজিরবিহীন সিন্ডিকেট গুদামে সারবোঝাই অর্ধশত ট্রাক আটকা, মাঠে হাহাকার

গুদামে সারবোঝাই অর্ধশত ট্রাক আটকা, মাঠে হাহাকার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম