Logo
Logo
×
   

সম্পাদকীয়

অমর একুশে বইমেলা

অনিশ্চয়তা পেরিয়ে মনন বিকাশের নতুন যাত্রা

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অমর একুশে বইমেলা

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অমর একুশে বইমেলায় শুক্রবার শিশুসহ দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো -যুগান্তর

বাঙালি জাতির অস্তিত্ব ও চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ অমর একুশে বইমেলা। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মুখরিত হয়ে উঠলেও এবারের প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংসদ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে ফেব্রুয়ারির শেষ প্রান্তে এসে শুরু হয়েছে প্রাণের এই মেলা। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অনিশ্চয়তার দোলাচল কাটিয়ে মেলা শুরু হওয়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর, তবে এই আয়োজনকে ঘিরে যে সংকটগুলো দৃশ্যমান হয়েছে, তা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এবারের মেলার প্রেক্ষাপট ছিল বেশ জটিল। নির্বাচনকালীন ব্যস্ততা এবং পবিত্র রমজান মাস শুরুর প্রেক্ষাপটে মেলার আয়োজন নিয়ে আয়োজক ও প্রকাশকদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে মেলা লাভজনক হবে কিনা, তা নিয়ে প্রধান প্রকাশকদের মেলা বর্জনের ডাক মেলার আয়োজনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে আশার কথা, সরকার ও বাংলা একাডেমির ইতিবাচক হস্তক্ষেপে স্টল বরাদ্দ ফি মওকুফের মতো সাহসী সিদ্ধান্তে প্রকাশকরা মেলায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছেন। এর ফলে ১৮ দিনের সংক্ষিপ্ত পরিসরে হলেও ৫৪৯টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে এই জ্ঞানালোকের উৎসব।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দেশটাকে ‘জ্ঞানের আলোয় আলোকিত’ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, যার বাস্তবায়নে বইমেলার ভূমিকা অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, বইমেলা শুধু কেনাবেচার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের মেধা ও মনন বিকাশের সূতিকাগার। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেট আসক্তি এবং বই থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা রোধে এ ধরনের আয়োজনের বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক জরিপে পাঠাভ্যাসে ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ৯৭তম অবস্থান নিঃসন্দেহে একটি সতর্কসংকেত। এই চিত্র বদলাতে হলে বইমেলাকে শুধু উৎসবের ফ্রেমে না আটকে একে একটি নিরবচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। একই সঙ্গে বইমেলাকে সারা বছর দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। জ্ঞানচর্চা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক থাকলে সুষম মেধাবিকাশ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে বাংলা একাডেমিকে আন্তর্জাতিক বইমেলা আয়োজনের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্বসাহিত্যের দরবারে আমাদের সাহিত্যকে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করি আমরা। জাতিসংঘে বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টাতেও এমন উদ্যোগ সহায়ক হবে। তবে সংক্ষিপ্ত সময়সীমা এবং রমজান মাসের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে এবারের মেলায় পাঠক ও দর্শনার্থীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানসম্মত বইয়ের সহজলভ্যতাও নিশ্চিত করতে হবে।

অমর একুশে বইমেলা আমাদের ভাষাশহীদদের রক্তস্নাত ত্যাগের প্রতীক। এই মেলা যত বেশি সমৃদ্ধ হবে, আমাদের জাতীয় চেতনা তত বেশি শক্তিশালী হবে। অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে যে মেলার যাত্রা শুরু হলো, তা যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মেধানির্ভর সমাজ বিনির্মাণে এ মেলা প্রধান আলোকবর্তিকায় রূপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .