জামায়াত-এনসিপি নির্বাচনি জোট গঠনে তোলপাড়
জুলাই তারুণ্যের স্বপ্নভঙ্গ
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভাঙনে তারুণ্যের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাচ্ছে কি না-এমন আলোচনা উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। বলা হচ্ছে, সর্বস্তরের মানুষ যে স্বপ্ন নিয়ে তারুণ্যের নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে সমবেত হয়েছিল, সেই সমর্থন শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারছে না এনসিপি। কারণ, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট করতে গিয়ে একদিকে মধ্যপন্থা থেকে বিচ্যুতি, অন্যদিকে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার আগ্রহে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে দলটিকে। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতায় আপত্তি জানিয়ে ইতোমধ্যে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ ৩০ নেতা চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে, শনিবার রাতেই জামায়াতের সঙ্গে জোটের সমর্থনে নাহিদ ইসলামের কাছে পালটা চিঠি দিয়েছেন এনসিপির ১৭০ জন নেতা। রোববার বিকাল পর্যন্ত ১২২ জনের বেশি এনসিপি নেতা দলের আহ্বায়কের কাছে এ বিষয়ে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও যুগ্ম-আহ্বায়ক ডা. তাসনূভা জাবীনসহ একের পর এক শীর্ষ নেতা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে দলটির মধ্যে তোলপাড় চলছে। জানা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হলে এনসিপি থেকে আরও অনেকেই পদত্যাগ করতে পারেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শীর্ষপর্যায়ের এমন নেতারা পদত্যাগ করতে থাকলে তারুণ্যের স্বপ্ন নিয়ে গড়া এনসিপি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর ফলে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়নের পথে সৃষ্টি হতে পারে নানা অন্তরায়।
এনসিপির আদর্শের সঙ্গে জামায়াতের জোট যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। রোববার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এনসিপি-জামায়াত জোটের বিষয়টি তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। আদর্শ অনুযায়ী অন্য দলের সঙ্গে জোট করা রাজনৈতিক অধিকার। তবে ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে এনসিপির বর্তমান সিদ্ধান্ত যায় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. নুর উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এনসিপির মূলত কোনো নীতি-আদর্শ নেই। এটি হঠাৎ করে গর্জে ওঠা একটা পার্টিমাত্র। দেশে বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা আদর্শ ও নীতি রয়েছে। এনসিপির কী আছে-এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যারা পদত্যাগ করছে, নিশ্চয়ই সব জেনে-শুনেই করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের অপর এক অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, একেকটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ-নীতি রয়েছে। কে কোন দল নিয়ে জোট বাঁধবে, ওটাও দলের নিজস্ব বিষয়। তবে দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পদত্যাগ কেন করছে, ওটা নিজস্ব বিষয়। এনসিপির দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এমনটা হওয়ার কথা নয়।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ ঘটে এনসিপির। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃস্থানীয় অনেকেই এই দলে যোগদান করলে জনমনে একধরনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। কিন্তু এই দল গঠনের ৮ মাস না যেতেই ভাঙনের কবলে পড়েছে। তবে এনসিপি গঠনের শুরুতেই আলোচনা ছিল যে, দল গঠন না করলেই ভালো করত জেন-জির প্রতিনিধিত্বকারী এ সংগঠকরা। তারা রাষ্ট্র ও সমাজের ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসাবে কাজ করতে পারলে সেটি দল গঠনের চেয়ে বেশি কার্যকর হতো বলে অনেকে মনে করেন। কারও মতে, ওই ধরনের কাজ করে তারা সমাজে ‘হিরো’ হয়ে বেঁচে থাকতে পারতেন। পারতেন ইতিহাসে নাম লেখাতে এবং জনগণ তাদের মাথায় করে রাখত। আবার যদি রাজনৈতিক দল গঠন করতেই হয়, সেক্ষেত্রে এনসিপিকে একটি বৃহৎ জুলাই আমব্রেলা হিসাবে স্বতন্ত্রভাবে দাঁড় করানো উচিত ছিল বলেও অনেকে মনে করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমই রোববার এমন মত ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, তিনি কিছুতেই এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন না।
বস্তুত নতুন দল গঠন করে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই এনসিপিকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর নানা ইস্যুতে মতবিরোধের সূত্র ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব হতে থাকে দলটির। এ সময় এনসিপির আদর্শ তথা রাজনৈতিক দর্শনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। জামায়াতকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ তকমা দিয়ে ওই সময়ই এনসিপির প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকজন ছাত্রনেতাকে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। একপর্যায়ে জামায়াত ও বিএনপি-দুটি দলের সঙ্গেই সম্পর্কে একধরনের নানা টানাপোড়েন চলে। বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধের সূত্র ধরে আজ পর্যন্ত এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি। এরপর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে প্রথমে এনসিপি আসন সমঝোতার ব্যাপারে বিএনপির সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করে। তবে হিসাবনিকাশ না মেলায় দলটি শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত করে। আর এ ঘটনা নিয়েই দলটির মধ্যে ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রোববার সকালে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে লিখেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেলে কঠিন মূল্য দিতে হবে এনসিপিকে। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট কিংবা আসন সমঝোতা নিয়ে স্পষ্ট আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্ভরযোগ্য মিত্র না। তার রাজনৈতিক অবস্থান বা দর্শনসহ কোনো সহযোগিতা বা সমঝোতায় যাওয়া এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে বলে আমি মনে করি।
সামান্তা শারমিন আরও লিখেছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সমস্যা তুলে ধরা মানেই বিএনপির পক্ষে অবস্থান বোঝায় না। বরং বিভিন্ন বিষয়ে এতদিন ধরে প্রকাশিত ও নানা মহলে প্রশংসিত এনসিপির অবস্থান আমি সঠিক মনে করি ও নিজেকে এই আদর্শের সৈনিক মনে করি। বিএনপি-জামায়াতের যে কোনোটির সঙ্গে জোট এনসিপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পলিসি থেকে সরে গিয়ে তৈরি হচ্ছে।’ সামান্তা শারমিন ছাড়াও রোববার দুপুরে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এনসিপির পদ ও সংসদ-সদস্য প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ফেনী-৩ আসনের সংসদ-সদস্য পদপ্রার্থী আবুল কাশেম। এছাড়া রোববার রাতেই নওগাঁ-৫ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্টে এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষায় গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী একমাত্র মধ্যপন্থি রাজনীতির ভরসাস্থল ছিল। এই দল থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নওগাঁ-৫ থেকে আমি মনোনীত প্রার্থী। তবে মনোনয়ন পাওয়ার আগে আমি জানতাম না, এই দল জামায়াতের সঙ্গে ৩০ সিটের আসন সমঝোতা করবে। এর আগে এনসিপি-জামায়াতের জোট চূড়ান্ত হওয়ার খবরে শনিবার সন্ধ্যায় সামান্তা শারমিনও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জামায়াতের সঙ্গে কখনো যাব না। জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য বাংলাদেশে আমাদের জন্ম হয়নি। জোটের ঘোষণা এলে সবকিছু প্রকাশ্যেই বলব।
ঢাকা-১৭ আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করছিলেন ডা. তাসনূভা জাবীন। রোববার সকালে তিনিও ঘোষণা দিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তার পদত্যাগের কথা জানিয়ে তিনি জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাসনূভা জাবীন বলেন, এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি। তিনি লিখেন আজ তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। অন্তত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছেন, তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। নির্বাচন করতে মানুষ তাকে যে অর্থ অনুদান হিসেবে পাঠিয়েছেন, তা তিনি এক এক করে ফেরত দেবেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমও দলের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া ‘আমি খুব সংক্ষেপে কিছু বিষয় জানাতে চাই’ শিরোনামের এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। নুসরাত তাবাসসুম জানান, এনসিপি তার জন্মলগ্নে আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছে, গণতন্ত্রের সুষম চর্চা, নয়া বন্দোবস্ত, মধ্যপন্থা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা, সভ্যতাকেন্দ্রিক সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশপন্থা নিয়ে। এনসিপি গঠনের সময় এটি ঠিক তাই ছিল যা আমি চেয়েছিলাম। আজ ঠিক ১০ মাস পর জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, আমি মনে করি এনসিপির সর্বোচ্চ নেতা এবং নীতিনির্ধারকরা নিজেরাই এর মূল বক্তব্য থেকে চ্যুত হয়েছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি নুসরাত তাবাসসুম, (যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি) নিজেকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচনকালীন পার্টির সব কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় করছি।
এর আগে সমঝোতা প্রচেষ্টার প্রতিবাদে কট্টর জামায়াতবিরোধী হিসাবে পরিচিত এনসিপি যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক দল থেকে পদত্যাগ করেন ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। তিনি এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১৬ আসন থেকে নির্বাচন না করার কথাও বলেছেন। এর পরপরই এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন পদত্যাগ করেন। তানসিম জারা এনসিপির হয়ে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পদত্যাগের পর ওই আসনেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছেন। জানা গেছে, তার স্বামী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহও দল থেকে পদত্যাগ করতে পারেন।
এনসিপিতে যোগদান না করলেও চলতি বছরের ২৭ জুন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান সংগঠনটির মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, কোনো অবস্থাতেই এনসিপির সঙ্গে তিনি যাবেন না, এনসিপির কোনো পদ-পদবিতেও তিনি সম্পৃক্ত থাকবেন না। রোববার এনসিপির বিষয়ে উমামা ফাতেমা যুগান্তরকে বলেন, এনসিপির কাছে ক্ষমতাই সবচেয়ে বড়। দলটির নেতারা নিজেদের ক্ষমতাবান করে তুলে নিজেদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারায়ই বেশি ব্যস্ত থাকছে। আমার কাছে মনে হয়, এ দলটির কোনোক্রমেই জনগণ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা ছিল না। উমামা ফাতেমা আরও বলেন, জোট গঠনের মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে একাট দ্বিধা, সেই দ্বিধা আরও জোরালো করার সুযোগ তৈরি করবে। মূলত এমন জোটের সিদ্ধান্ত, জনগণকে আশাহত করছে।
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ৮ দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোটে আরও দুটি দল যুক্ত হয়েছে। দল দুটি হচ্ছে এলডিপি (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি) ও এনসিপি।
চিঠি-পালটা চিঠি : জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় আপত্তি জানিয়ে শনিবার চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমসহ আরও অনেকেই রয়েছেন। অন্যদিকে সমঝোতায় সমর্থন জানিয়ে রোববার চিঠি দিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, জাভেদ রাসীন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া ও এহতেশাম হক, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আতাউল্লাহ, মাহমুদা মিতুসহ আরও অনেকে।
এনসিপির অংশ হচ্ছেন না মাহফুজ আলম : এনসিপির অংশ হচ্ছেন না বলে রোববার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। রাত সোয়া আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানিয়ে মাহফুজ আলম যখন ফেসবুকে পোস্টটি দেন তখন এনসিপির শীর্ষ নেতাদের একটি সংবাদ সম্মেলন চলছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘আমার অবস্থান স্পষ্ট। নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা, রিকন্সিলিয়েশন, দায়-দরদের সমাজ-এই কথাগুলো আমি বারবার বলেছি।’ তিনি জানান, নাগরিক কমিটি ও এনসিপি জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল এবং সেখানে তার জুলাই সহযোদ্ধারা যুক্ত থাকায় দেড় বছর ধরে তিনি পরামর্শ ও নীতিগত সহায়তা দিয়েছেন। তবে এনসিপিকে একটি বৃহৎ জুলাই আমব্রেলা হিসাবে স্বতন্ত্রভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা সফল হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।
এনসিপিতে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহফুজ আলম বলেন, ‘ঢাকার কোনো একটি আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চেয়ে আমার লং স্ট্যান্ডিং পজিশন ধরে রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিদ্যমান বাস্তবতায় আমার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ এবং বন্ধুত্ব মুছে যাবে না। কিন্তু আমি এ এনসিপির অংশ হচ্ছি না। তিনি বলেন, তাকে জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, এমন বক্তব্য সত্য নয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ‘শীতল যুদ্ধের সময়’ উল্লেখ করে মাহফুজ আলম বলেন, ‘এই পর্বে কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজেদের বক্তব্য ও নীতিতে অটল থাকাই শ্রেয়।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত সম্ভব ও বাস্তব। বিকল্প ও মধ্যপন্থি তরুণ/জুলাই শক্তির উত্থান অত্যাসন্ন।’ তিনি জানান, ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সব মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রাখবেন এবং এই পথে যারা যুক্ত হতে চান, তাদের জন্য দরজা খোলা।
পদত্যাগে দলে কোনো প্রভাব পড়বে না : এনসিপি থেকে একের পর এক নেতার পদত্যাগের ঘটনায় দলে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন। রোববার ঢাকার সিএমএম আদালতে দুটি মামলায় জামিন নিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন বলেন, যা কিছু হচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই হচ্ছে। কয়েকজনের পদত্যাগে দলের সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

