বাস-মাইক্রো সংঘর্ষে রামপালে বর-কনেসহ নিহত ১৪
বিয়ের আনন্দ মিলিয়ে গেল নিমেষেই
Advertisement
বাগেরহাট ও মোংলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে গেছে মাইক্রোবাস। বৃহস্পতিবার রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাগেরহাটের রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১৫ জন। নিহতদের মধ্যে বরপক্ষের রয়েছেন ১১ জন। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিয়ে বাড়ির আনন্দ যেন নিমেষেই মিলিয়ে গেল বিষাদে। পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, স্থানীয় সংসদ-সদস্য বন পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। এদিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
রামপাল থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে মাইক্রোবাসে বাড়ি ফেরার পথে নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী আঞ্জুমান, ভাই সামিউল আলম, তিন ছেলে (বর) সাব্বির, ইমরান, আলামিন ও শ্যালিকার দুই মেয়ে পুতুল ও ঐশী এবং কনে পরিবারের (কনে) মার্জিয়া মিতু, কনের ছোট বোন লামিয়া ও কনের নানি রয়েছেন। এছাড়া মাইক্রোবাসচালক নাঈম শেখও নিহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চারজন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন মারা যান। নৌবাহিনীর স্টাফবাসের কমপক্ষে ১৪-১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর বাসটি বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার সময় মুষুলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তারা।
কনের মামা আবু তাহের জানান, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশায় দুপুরে তার ভাগনির (মার্জিয়া) বিয়ে হয়। মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি। রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মার্জিয়া, তার বোন লামিয়া ও নানি মারা গেছে। মোংলা পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম বলেন, মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের বিয়ে। তিনি ছেলে-পুত্রবধূ নিয়ে মোংলায় বাড়িতে আসছিলেন। পথে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। মাইক্রোবাসে মোট ১৪ জন ছিলেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের লাশ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর তিনজন পুরুষ। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি একজনও মারা গেছেন। রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় চারজনের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। তাদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানা যায়নি। কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কেএম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথে বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
