সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার চায়
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের শত শত নিরীহ নাগরিককে যারা হত্যা করেছে, তাদের অপতৎপরতা বাংলাদেশের মাটিতে বরদাশত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তবে তাদের অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’ রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আগামী জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং এ বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও শুনছি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসতে চান। সাবেক এই স্বৈরাচারী শাসককে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারতের কাছে কয়েক দফা আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার।’
আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার ছিল। ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত যে রায় বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক দিয়েছিলেন, সেটা বাতিল করেছেন সর্বোচ্চ আদালত এবং জুডিশিয়ালি সেটা রিভাইভ (পুনর্বহাল) করেছে। আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রতিস্থাপন করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক বছর পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, উৎসাহ-উদ্দীপনাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।’ অতীতের দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দুর্ঘটনা, অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো ঘটনা ঘটেছে। এবার সেই ধরনের পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়েছে। কারণ, ডিজিটাল পদ্ধতি ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি মুহূর্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। আগে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ সর্বোচ্চ চার কোটি টাকা ছিল। এ বছর প্রধানমন্ত্রী সেই বরাদ্দ এক কোটি টাকা বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি পূজার ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটিসহ পাঁচ দিনের ছুটির ব্যবস্থা এবং পূজা উপলক্ষ্যে এক দিনের ছুটি বাড়ানো হয়েছে।’
গোপালগঞ্জ সদরের খেয়াঘাটে সম্প্রতি পুলিশের গাড়িতে হামলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু সন্ত্রাসী টহলরত পুলিশের ওপর হামলার অপচেষ্টা চালায়। সংখ্যায় কম থাকায় পুলিশ আক্রান্ত হলেও ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতোমধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে।’
পার্বত্য অঞ্চলের (সাজেক) সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ-সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়াসহ স্থানীয় নেতৃত্ব যৌথভাবে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে অভিযান এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৮৫ জনকে সাজা দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অভিযুক্ত কর্মকর্তার পরিচয় বিবেচনা না করে তাকে ইতোমধ্যেই সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভাগীয় মামলাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
