Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

ওসমান হাদি হত্যা

৫ দফা হাতবদলের পর অস্ত্র যায় শুটার ফয়সালের কাছে

Advertisement

মহিউদ্দিন খান রিফাত

মহিউদ্দিন খান রিফাত

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

৫ দফা হাতবদলের পর অস্ত্র যায় শুটার ফয়সালের কাছে

Advertisement

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি হত্যাকাণ্ডের আগে অন্তত পাঁচ দফা হাতবদল হয়েছে। প্রায় ২ লাখ টাকায় বিক্রির পর অস্ত্রটি একের পর এক হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সালের কাছে। এ ঘটনায় মাজেদুল হক হেলাল নামে এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীকে শনাক্তে জোর তৎপরতা চলছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। এদিকে মঙ্গলবার গ্রেফতার আসামি হেলালকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার করা পিস্তলটি তুরস্ক থেকে ঢাকার এম আইচ আর্মস কোং আমদানি করে। পরে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় ডিলার চকবাজারের ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে সেটি বিক্রি করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স পিস্তলটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং-এর কাছে বিক্রি করে। তদন্তে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের মালিক গ্রেফতার আসামি মাজেদুল হক হেলাল। অস্ত্রের লাইসেন্সটি আগে তার বাবা হামিদুল হকের নামে ছিল, যা ২০০০ সালে নিজের নামে করে নেন তিনি। তবে লাইসেন্সটির মেয়াদ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করা থাকলেও এরপর আর নবায়ন করা হয়নি। নবায়ন না করেই অবৈধভাবে অস্ত্রটি কেনাবেচা করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জানান, হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল) নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নরসিংদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া কার্তুজ ও বুলেট ফরেনসিক পরীক্ষায় মিলিয়ে দেখা হয়েছে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, একই পিস্তল থেকেই ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া কার্তুজ ও বুলেট ফায়ার করা হয়েছে। এছাড়া মাইক্রো অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে পিস্তলটির সিরিয়াল নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, অস্ত্রটি কীভাবে মো. মাজেদুল হক হেলালের কাছ থেকে আসামিদের হাতে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে তথ্য পেতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে অস্ত্রটি কার কার কাছে বিক্রি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

এদিকে বুধবার আসামিকে আদালতে হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, এই মামলার আসামি হেলাল অস্ত্র ব্যবসায়ী। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের চকবাজার থানা এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম