বিশাল হাসপাতাল ভবনে বাস সাপ-পোকামাকড়ের
৪১ বছরেও নির্মাণ অসম্পন্ন
Advertisement
শামীম খান, ধামরাই (ঢাকা)
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার ধামরাইয়ে অসমাপ্ত হাসপাতাল কমপ্লেক্সটির চারপাশ এখন ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার ধামরাই ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর সীমান্তবর্তী পাইকপাড়া এবং ওয়ার্শী গ্রামের ১৬ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এক বিশাল অসমাপ্ত হাসপাতাল কমপ্লেক্স। ১৯৮৫ সালে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল ইউনুস খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ। কিন্তু দীর্ঘ ৪১ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই স্বপ্নের প্রকল্প।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশিষ্ট শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবালের বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবাকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাকে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে হয়েছিল। সেই কষ্ট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে তিনি এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
টানা ২০ বছর বিপুল অর্থ বিনিয়োগে হাসপাতালটির মূল ভবন, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হোস্টেল, দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, পুকুরসহ প্রায় ৮০ শতাংশ অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের কারণে কাজের গতি কমে যায়। সর্বশেষ ২০১৭ সালে মূল উদ্যোক্তা শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবালের মৃত্যুর পর প্রকল্পটি পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে।
সরেজমিন দেখা যায়, বিশাল এই হাসপাতাল কমপ্লেক্সটির চারপাশ এখন ঘন বন-জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। দিনের বেলায় গা ছমছমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেখভালের অভাব ও দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত অবস্থার কারণে ভবনটি এখন স্থানীয় মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। রাতদিন এখানে বিষাক্ত সাপসহ বিভিন্ন পোকামকাড়ের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কোটি কোটি টাকার সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেখে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
কথা হয় স্থানীয় মেডিকেল শিক্ষার্থী জহির আহমেদ পাপনের সঙ্গে। তিনি জানান, ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন হাসপাতালটি চালু করা গেলে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হতো। বিপুল বিনিয়োগ কোনো কাজেই আসছে না।
প্রতিষ্ঠানটির দেখভালের দায়িত্বে আছেন ইকবাল আহমেদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি যুগান্তরকে বলেন, মূল উদ্যোক্তার মৃত্যুর পর কাজ সচল করা সম্ভব হয়নি। তবে মালিকপক্ষ এখনো জনগণের সেবায় হাসপাতালটি চালু করতে আগ্রহী। সরকার বা কোনো বড় প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে মালিকপক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা করতে রাজি আছে। স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী অনীক বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে লাখ লাখ মানুষ ঢাকার যানজট এড়িয়ে ঘরের কাছেই উন্নত চিকিৎসা পেতেন।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন জানান, চৌহাট ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের এই প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিক। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির মহতী উদ্যোগে এই বিশাল প্রকল্প শুরু হয়েছিল। উদ্যোক্তার মৃত্যুর পর এটি থমকে গেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ-সদস্যকে জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে জনস্বার্থে সরকার দ্রুত হাসপাতালটি অধিগ্রহণ অথবা যৌথ ব্যবস্থাপনায় সচল করার কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে।
