চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলন
অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া চালক সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেফতার
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহতদের বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া চালক মো. সাজ্জাদ হোসেনকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার নগরীর চকবাজারের শাহ লেইন থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন রোববার দুই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার পাঁচ দিন পর শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
সাজ্জাদ হোসেনের বাড়ি নগরীর পাঁচলাইশ থানার গোয়াছি বাগান এলাকায়। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের রোগী পরিবহণে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স চালান।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় দুটি মামলা হয়। ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদন করেছিলেন তিনি। এরপর তাকে এতদিন পর্যন্ত পুলিশ হয়রানি করেনি বলে জানায় তার পরিবার।
সূত্র জানায়, গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। এর পরদিন দায়ের মামলায় সাজ্জাদ হোসেনকেও আসামি করা হয়। বিষয়টি জেনে ১০ মার্চ সিএমপি কমিশনারের কাছে মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আবেদন করেন তিনি। আবেদনের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সময় সাজ্জাদের কী কী ভূমিকা ছিল, তাও যুক্ত করা হয়। এরপর ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় একই থানার চট্টেশ্বরী মোড় এলাকায় আরেকটি মিছিলের ঘটনায় সাজ্জাদকে আবারও আসামি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন ওসি মো. জাহেদুল কবিরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন সাজ্জাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, সবকিছু দেখার পর মামলাগুলোর অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় সাজ্জাদের নাম বাদ দেওয়া হবে বলে তখন ওসি আশ্বস্ত করেছিলেন।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি একটি পক্ষ সাজ্জাদকে চকবাজার থানা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করে পুলিশের কাছে একটি কমিটির কাগজ জমা দিয়েছে। তবে তার পরিবারের অভিযোগ, সাজ্জাদকে ফাঁসানোর জন্যই ওই পক্ষ জাল কমিটির কাগজ তৈরি করে পুলিশের কাছে সরবরাহ করেছে। সাজ্জাদের বড় ভাই ও চকবাজার থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই সাজ্জাদ কখনো রাজনীতি করেননি। তিনি জুলাই আন্দোলনের সময়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়েছিলেন। এমনকি তখন শিক্ষার্থীদের জন্য রক্তও দিয়েছিলেন। অথচ তিনি এখন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে। তিনি মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এ বিষয়ে জুলাই আন্দোলনের সংগঠক সাখাওয়াত হোসাইন শিপন বলেন, সাজ্জাদ হোসেন জুলাই আন্দোলনের সহযোগী যোদ্ধা। তিনি ওই সময় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। এমন একজন ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার করা কখনোই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, থানায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসাবে সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা থেকে পরিত্রাণ পেতে সিএমপি কমিশনারের কাছে কোনো চিঠি দিয়েছেন কি না, আমার জানা নেই।
