প্রতিবেশীর ঘরে কাপড়ে মোড়ানো শিশুর নিথর দেহ
Advertisement
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সকালে খেলতে যাওয়া মেয়েটি আর ফেরেনি। তিন বছরের হালিমাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ মা রাশেদা আক্তার। রোববার ফটিকছড়ির দাঁতমারায় -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সকালটা শুরু হয়েছিল অন্যদিনের মতোই। তিন সন্তানকে নিয়ে সকালের নাশতা করেছিলেন রাশেদা আক্তার। স্বামী নাছির উদ্দীন ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভাঙাচোরা একটি ঘরে তাদের সংসার। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিচিন্তা হিন্দুপাড়ার পাশেই একটি জমিতে তাদের সেই ছোট্ট ঘর।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে নাশতা শেষে শিশুরা যে যার মতো খেলতে চলে যায়। কিন্তু এক ঘণ্টা পরই পরিবারের মধ্যে নেমে আসে আতঙ্ক। তিন সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট, তিন বছরের হালিমা আক্তারকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
বাড়ির আশপাশে খাল ও চাষের জমি থেকে শুরু করে পরিচিত সব স্থানে খোঁজ করেন পরিবারের সদস্যরা। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছোটাছুটি, পরিচিতজনের কাছে জিজ্ঞাসা-কোথাও মিলছিল না হালিমার সন্ধান। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। শিশুটিকে খুঁজতে একত্র হন প্রতিবেশী ও গ্রামবাসী। বাড়ির আশপাশ, সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান-সবখানেই চলতে থাকে খোঁজাখুঁজি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উদ্বেগ। সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েন মা রাশেদা আক্তার। একপর্যায়ে কয়েকদিন আগে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের পরিবারের সঙ্গে ঝগড়ার বিষয়টি সামনে আসে। সেই বিরোধের জেরে হালিমাকে আটকে রাখা হয়েছে কি না-এমন সন্দেহ থেকে গ্রামবাসী ওই বাড়িতেও খোঁজ করেন। তবে তখন শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মসজিদের মাইকেও হারানোর খবর প্রচার করা হয়।
পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ সন্দেহভাজন বাড়িটি ঘিরে তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে শনিবার রাত ৯টার দিকে পাওয়া যায় হালিমাকে। তবে জীবিত নয়-বাড়ির ১৫০ ফুট দূরে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের ঘরের আলনার পেছনে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল হালিমার নিথর দেহ।
মেয়ের লাশ উদ্ধারের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রাশেদা আক্তার। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী পরিবারের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে তার মেয়েকে হত্যা করা হতে পারে। তার শঙ্কা, কারও থেকে টাকা নিয়েও মেয়েকে হত্যা করতে পারে। তিনি দাবি করেন, হালিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল, শরীর কালো হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ফুলে গেছে। হত্যাকারী যে বা যারাই হোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি। যে বাড়িতে সকালেও ছিল স্বাভাবিক জীবনযাপনের ব্যস্ততা, অথচ সন্ধ্যার পর নেমে আসে শোকের মাতম।
প্রতিবেশী তাজু সওদাগর বলেন, বড়দের মধ্যে ঝগড়া থাকতে পারে, এই মাছুম শিশুটির কী দোষ ছিল! যে বয়সে মায়ের আঁচল ধরে ঘুরে বেড়ানোর কথা, উঠানে খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে কাটার কথা দিন-সেই বয়সেই তাকে প্রাণ দিতে হলো।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আবদুল আউয়াল, তার মেয়ে আসমা ও ছেলে রবিউলকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ। তিনি বলেন, লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
