এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড দুজনের যাবজ্জীবন
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রায়হান আহমদ ও আকবর হোসেন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতনে রায়হান আহমদকে (৩৪) হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি পুলিশের বহিষ্কৃত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
একই সঙ্গে বরখাস্ত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামি বহিষ্কৃত এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী দেশব্যাপী তোলপাড় করা এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিপি জানান, মামলায় অভিযুক্ত ৬ আসামির মধ্যে শুধু এএসআই আশেক এলাহী কারাগারে আছেন এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হলেও প্রধান অপরাধী এসআই আকবরসহ বাকি পাঁচ আসামিই জামিনে আছেন। তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করে বিদেশে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রায় ঘোষণার আগে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি এসআই আকবরসহ অন্য প্রধান আসামিদের জামিন ও পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমার রায়হানকে যারা নির্যাতন করে খুন করল তারা তো পালিয়ে গেছে, এই রায় শুনে আমি কী করব? রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিচারকাজের যুক্তিখণ্ডন শেষ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে আসামিরা জামিন পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল? আজ তো শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে, আসামিরা শাস্তি না পেলে আমার গত ৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনাহার-কষ্টের লড়াই তো বিফলে গেল।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে আখালিয়ার নিহারিপাড়ার যুবক রায়হান আহমদকে আটক করে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে এনে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনে রায়হান অনেকটা নিথর হয়ে পড়লে ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে চিকিৎসকরা রায়হানকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করলে পিবিআই তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে এসআই আকবরকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করে। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষিত হয়।
