ঢাকার সাত রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রুট রেশনালাইজেশন বাসের কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি। রোববার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরাতে ছয়টি সাধারণ ও একটি চক্রাকার মিলিয়ে সাতটি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। একই রুটে বিভিন্ন পরিবহণ কোম্পানির বাসের যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতা কমিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় বাস পরিচালনার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ-সদস্য ও পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ও ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
চালু হওয়া সাধারণ রুটগুলো হলো-গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, টঙ্গী থেকে আজিমপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া, ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ঘাটারচর থেকে চিটাগাং রোড-কাঁচপুর এবং ঘাটারচর থেকে আবদুল্লাহপুরের ধউর। চক্রাকার রুটটি হলো মিরপুর-১ থেকে কাকলী-বনানী পর্যন্ত। তবে নতুন ব্যবস্থা চালুর শুরুতে নতুন বাস নামানো সম্ভব হয়নি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিমুল বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নেওয়ায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দ্রুততর হয়েছে। অতীতে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রভাবশালী মহলকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে এ খাতে সঠিক ফল পাওয়া যায়নি। ঢাকার ৩২টি রুটে পর্যায়ক্রমে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু হবে ও প্রতিটি রুটে আলাদা রঙের বাস থাকবে বলে তিনি জানান।
বিশেষ অতিথি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম পর্যায়ে চালু হওয়া ছয়টি সাধারণ রুটে আগে প্রায় ১৮টি ব্যানারে বাস চলত। সেগুলো ছয়টি কোম্পানির অধীনে আনা হয়েছে। চালক ও শ্রমিকদের চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বেতনভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছে দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকায় ২৫টি চক্রাকার রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত পাঁচটির মধ্যে একটি রুটে এসি বাস চালু হয়েছে। বাকি চারটির জন্য ২৭ আসনের মিনিবাসের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে বাস পাওয়া গেলে সেগুলোয়ও চলাচল শুরু হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ডিটিসিএ-এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্টপেজের বাইরে যাত্রী ওঠানামা নয় : নতুন ব্যবস্থায় বাস পরিচ্ছন্ন ও চলাচলের উপযোগী রাখার নির্দেশনা রয়েছে। সামনে-পেছনে ডিজিটাল বোর্ডে রুট নম্বর, যাত্রার শুরু ও শেষ গন্তব্য এবং গাড়ির ক্রমিক নম্বর দেখাতে হবে। বাসে রাখতে হবে স্টপেজের তালিকা। চালক ও কর্মীদের পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতে এবং যাত্রীদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করতে হবে। নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত যাত্রীর জন্য নির্ধারিত সময়ের বেশি অপেক্ষা ও নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং করা যাবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান, সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, সড়ক পরিবহণ করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি এমএ বাতেন প্রমুখ।
