জনগণকে বুঝতে ব্যর্থ হলে চব্বিশ ফিরে আসবে: জামায়াত আমির
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘বিএনপি সুস্পষ্ট ভুল পথে চলছে’ মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভুল পথ থেকে ফিরে আসুন। জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হলে আবার চব্বিশ ফিরে আসবে। জনগণের রায় মেনে নিয়ে ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে সবার মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার মগবাজারস্থ আল ফালাহ মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রক্ষীবাহিনীকে সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়; তাদের বিরুদ্ধে বিচার ও জবাবদিহির কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ বাহিনীর হাতে ৩৪ হাজার মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার ছিলেন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। সেনাবাহিনীকে অবজ্ঞা ও অপমান করার পাশাপাশি সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পেছনে সেটিও একটি কারণ ছিল।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বিএনপি ছিল না, ১৯৭৫ সালেও দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই ইতিহাসে কোনো ব্যক্তির অবদানকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে কৃতিত্বের লড়াই না করে যার যেখানে অবদান, তাকে সেখানে স্বীকৃতি দিতে হবে। স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদানও যথাযথভাবে স্মরণ করতে হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় মেনে নেওয়া উচিত। কিন্তু এখন সেই রায় মানা হচ্ছে না। মূলত তারা আবার কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ফিরে যাওয়ার সব আয়োজন পূর্ণ করে ফেলেছে।
বিরোধী দলের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলোর প্রতিবাদ না করলে বিরোধী দল হিসাবে জনগণের প্রতি দায়িত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। এ কারণেই তারা সাত দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এসব দাবি কোনো দলের একক দাবি নয়; এগুলো জনগণের দাবি।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের শিক্ষা হচ্ছে দেশ পরিচালনায় জনগণের মনের ভাষা বুঝতে হবে। যারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হবে, তাদের পরিণতি ইতিহাসে বারবার ফিরে আসবে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করারও সুযোগ নেই।
সরকারকে ভুল পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বললে মাতারবাড়ীসহ জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গি জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত। পরে জামায়াত আমির ঢাকা মহানগরী উত্তরের ২০২৭-২৮ বছরের জন্য নবনির্বাচিত আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে শপথবাক্য পাঠ করান।
