ঢাকা দক্ষিণ সিটি
মাদক-জুয়ায় যুবকরা জড়াচ্ছে চাঁদাবাজিতে
‘জনতাত্ত্বিক মুনাফা’ বড় চ্যালেঞ্জ
Advertisement
মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, ডেমরা (ঢাকা)
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতীকী ছবি: এআই
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে উঠছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অভিজ্ঞ মহলের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে মাদক-জুয়ার আগ্রাসন, সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চাঁদাবাজিতে সহজেই জড়িয়ে পড়ছেন একশ্রেণির যুবক। পর্যাপ্ত ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেকে রাজনীতিনির্ভর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। আবার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় দক্ষ নাগরিক হিসাবেও গড়ে উঠতে পারছেন না তারা। ফলে বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সুযোগ ‘জনতাত্ত্বিক মুনাফা’ এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর ২৩টি থানাধীন ডিএসসিসিকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে রয়েছে ৭৫টি প্রশাসনিক ওয়ার্ড এবং নারীদের জন্য ২৫টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর আসন। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানকার জনসংখ্যা ছিল ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৩। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৫ জনে। ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভোটার ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন। ডিএসসিসির আয়তন ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এত বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে দক্ষ যুবসমাজ গঠনে এখনো যথাযথ উদ্যোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি নগরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনসংখ্যার বয়স কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি থাকলে দ্রুত অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হয়, যা ‘জনতাত্ত্বিক মুনাফা’ হিসাবে পরিচিত। সাধারণত এ সুযোগ ২০ থেকে ৫০ বছর স্থায়ী হতে পারে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করা গেলে এ সময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। অন্যথায় বেকারত্ব, সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা তৈরি হতে পারে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ডিএসসিসিতে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় তরুণদের একটি অংশ হতাশায় ভুগছে। কেউ মাদক, জুয়া ও অপরাধে জড়াচ্ছে, কেউ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ঢুকে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছে। চুরি-ছিনতাই, মাদক বিক্রি ও অনলাইন জালিয়াতির মতো অপরাধেও তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। ওয়ারী বিভাগের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান, শিবলি সাদিক, আনোয়ার ও শাহিন বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের সুযোগ তারা পাচ্ছেন না। ডিগ্রি নিয়েও অনেকে বেকার। চাকরিতে অভিজ্ঞতা চাওয়া হলেও প্রশিক্ষণ ছাড়া অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ নেই।
ডিএসসিসির অঞ্চল-৬ আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ রানা বলেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫-২৯ বছর বয়সি তরুণদের প্রায় ২৮ শতাংশ কোনো কর্মসংস্থানে নেই এবং শিক্ষার সঙ্গেও যুক্ত নয়। এ পরিস্থিতি সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়াতে পারে। লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট লায়ন মীর আব্দুল আলীম বলেন, যুবসমাজ একটি নগর ও দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে, যাতে তরুণরা চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসাবেও গড়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) (যুগ্মসচিব) মো. মানিকহার রহমান বলেন, ঢাকা দক্ষিণে যুবসমাজের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশে প্রতিবছর শিক্ষাক্ষেত্র থেকে ২২ লাখ বেকার তরুণ-যুবক বের হন। সরকারি-বেসরকারিভাবে ৫ লাখের কর্মসংস্থান হচ্ছে। বাকি ১৬-১৭ লাখের মধ্য থেকেও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ২২ থেকে ২৫ শতাংশকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আÍনির্ভরশীল করে তুলছে। এতে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখের কর্মসংস্থান হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিতদের কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
