বছরে লাখ লাখ স্যুটকেস হারায় মার্কিন বিমানবন্দরে
জাপানে পৃথিবীর একমাত্র বিমানবন্দর, যেখানে এ পর্যন্ত একটি সুতাও হারায়নি যাত্রীদের
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতিবছর লাখ লাখ স্যুটকেস হারায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে। লেবেলিংয়ে ভুল, লজিস্টিক সমস্যা ও পরিচয়ের অভাবে সেসব ব্যাগ আর কখনো মালিকের কাছে পৌঁছে না। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিবছর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রায় ৩০ লাখ ব্যাগ হারায়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, লাগেজ বা স্যুটকেস হারানোর এ ভোগান্তি কমবেশি বিশ্বের সব যাত্রীরই আছে। ইউরো নিউজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে ব্যাগ খোয়ানোর ফলে ফি বছর গড়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয় বিশ্বজুড়ে। সিএনএন, ইউরো নিউজ।
গত বছরের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১,০০০ যাত্রীর মধ্যে গড়ে ৬.৩% ব্যাগ ভুলভাবে ব্যবস্থাপনা করেছে এয়ারলাইনগুলো। হারানো ব্যাগের ৯৯.৫% শেষ পর্যন্ত মালিকের কাছে ফিরে যায়। তবে বাকি অল্পসংখ্যক ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। শুধু ২০২৪ সালের আগস্টেই যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ব্যাগ বেঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু এখন প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে। এখন অনেক বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন ‘সেলফ?সার্ভিস ব্যাগ ড্রপ’ ব্যবহার করে। ফলে ২০২৪ সালের তুলনায় হারানো ব্যাগের হার খানিকটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হারানো লাগেজগুলো বিক্রি করা হয় ‘আনক্লেইমড ব্যাগেজ’ নামের বিশাল দোকানে। উত্তর-পূর্ব আলাবামার এই দোকানটি অবস্থিত। প্রতিবছর লাখ লাখ কাপড়-চোপড়, গহনা, ইলেকট্রনিক্সসহ অসংখ্য পরিত্যক্ত জিনিস এসে জমা হয় দোকানটিতে। এয়ারলাইনগুলো সাধারণত তিন থেকে চার মাস চেষ্টা করে হারানো লাগেজ মালিকের কাছে ফেরত দিতে। এরপরও মালিকদের খুঁজে পাওয়া না গেলে কর্তৃপক্ষ ব্যাগ/স্যুটকেস/লাগেজগুলোকে বিক্রি করে দেয় এই আনক্লেইমড ব্যাগেজে। মাঝে মাঝে কিছু কিছু লাগেজে বিচিত্র জিনিসও পাওয়া যায়। যেমন-কফিনের চাবি, নকল চুল, হাঙরের দাঁত ও মিসরের ঐতিহাসিক নিদর্শনে ভরা একটি গুচ্চি ব্যাগ। দোকানের মালিক হুড সিএনএনকে জানান, দোকানে পণ্যের দাম খুচরা দামের তুলনায় ২০%-৮০% কম হয়ে থাকে। তবে ব্যতিক্রম উদাহরণও আছে। সেটি হলো জাপানের কানসাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ওসাকা উপসাগরের মাঝে নির্মিত কৃত্রিম দ্বীপটির এ বিমানবন্দরটিই পৃথিবীর একমাত্র বিমানবন্দর যেখানে এ পর্যন্ত একটি সুতাও হারায়নি যাত্রীদের। ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে যাত্রা শুরু করা কানসাইয়ে গত বছর প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীসেবা দিয়েছে।
