তৃণমূলে ভাঙন, তবু নেত্রী মমতাই
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মমতা ব্যানার্জি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সংকট ও বিদ্রোহের আবহে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলকে নতুনভাবে সাজাতে সর্বস্তরে আত্মসমালোচনা, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন দলের একাংশের বিধায়ক প্রকাশ্যেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একাংশের বিদ্রোহী বিধায়করা বিধানসভায় পৃথক অবস্থান নেওয়ার পথে এগোলেও দলনেত্রী হিসাবে এখনো মমতা ব্যানার্জির ওপরই আস্থা রাখছেন বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়া ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত চিঠিতে দলনেত্রী হিসাবে মমতার নামই উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ওই চিঠিতে ঋতব্রত ব্যানার্জিকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। উপদলনেতা হিসাবে কয়েকজন বিধায়কের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে তৃণমূলের ভেতরে যে সংঘাত এখন মূলত নেতৃত্বের দ্বিতীয় সারিকে ঘিরে, তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ঘটনার সূত্রপাত হয় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চ্যাটার্জিকে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবপত্রে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই দলের অন্দরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়। তদন্তে নামে পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ। ইতোমধ্যে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। সেই ঘটনার পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে আসে।
এদিকে ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করার পর এবার তার নিরাপত্তা দুই ধাপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
