অনার্স-মাস্টার্স পড়ুয়া কওমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা
Advertisement
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইদানীং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কওমি শিক্ষার্থীদের টানছে। কেউ অনার্স অফার করছে, কেউ এমবিএ মাস্টার্স। অনেকে দলে দলে ভর্তিও হচ্ছেন। তাদের সতর্ক করার জন্য বলে রাখি- কওমি সনদ যতদিন কার্যকর না হবে, এ সব ইউনিভার্সিটির সনদ দিয়ে কোনো কাজ হবে না। এখানে একটা বড় ফাঁকি আছে, শুরু থেকে বলি।
২০০৬ সালে বিএনপি সরকার কওমি সনদের স্বীকৃতির একটা গেজেট প্রকাশ করে, তাতে আইন করবে বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু করে নাই। তবে সেই গেজেটের বলে ২০০৮ সালে ইউজিসি একটা পত্র ইস্যু করে বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান বরাবর, যেখানে স্পষ্ট লেখা আছে- ‘প্রজ্ঞাপনের মর্মানুযায়ী কওমি মাদ্রাসার দাওরা ডিগ্রিধারীগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাসঙ্গিক বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’
বুয়েটে কওমি মাদ্রাসার প্রাসঙ্গিক বিষয় কোনটা আছে জানি না এবং এ চিঠি ইস্যুর কারণ সম্পর্কেও জানা নাই। কিন্তু কওমি সার্টিফিকেট দিয়ে কোনো শিক্ষার্থী বুয়েটে ভর্তি হতে পেরেছেন বলে নজির নাই।
২০১৪ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউজিসি ২০১৫ সালে আবারও একটা চিঠি ইস্যু করে, সেখানেও একইভাবে কওমি পড়ুয়াদের স্নাতক (অনার্স) পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
সালটা খেয়াল করেন। ২০১৫। তখনো কওমি সনদের স্বীকৃতির আইন হয় নাই। কিন্তু ইউজিসির পত্র নিয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ‘কিউ সেকশন’ নামে শুধু কওমিদের আলাদা অনার্স কোর্স চালু করে। এখানে জেনারেলদের ঢোকানো হতো না, জেনারেল অনার্স কোর্সেও কওমিদের এক্সেস ছিল না।
আজ অবধি সেখান থেকে যারা অনার্স–মাস্টার্স করেছেন, তারা কওমি ও সেই সার্টিফিকেট দিয়ে কোথাও কি এমফিল–পিএইচডি, বিসিএস কিংবা সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পেরেছেন? আমার জানা নাই।
তারপর ২০১৮ সালে কওমি স্বীকৃতির আইন হয়েছে। কিন্তু দুঃখের কথা হলো, এখন অবস্থা আরও খারাপ। আজ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে গেলাম, সেখানে ইউজিসির পত্র পড়ে শোনানো হলো যে, যেহেতু কওমি মাদ্রাসায় মেট্রিক–ইন্টার নাই, সুতরাং অনার্স দেওয়ার সুযোগ নাই, তবে যেহেতু মাস্টার্সের মান আছে, তাই চাইলে মাস্টার্স করতে পারবে। তাহলে এর আগে ২০০৮ সালে ও ২০১৫ সালে যে তারা বলল অনার্স করতে পারবে, সেটা কেন বলল? ইউজিসির বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত।
কওমি শিক্ষার্থীদের বোঝা উচিত- শুধু মাস্টার্সের সার্টিফিকেট দিয়ে কোনো জব কিংবা সার্টিফিকেট চায়, এমন কোথাও আবেদন করা যায় না। যারা বলেন (এমনকি আজ ইস্টার্নের ভিসিও বললেন) যে, মাস্টার্সের সার্টফিকেট দিয়ে পিএইচডি করতে পারবেন— এটা ভুল। বাংলাদেশে অনার্স ছাড়া কোথাও পিএইচডির আবেদনের সুযোগ নেই। এখন এমফিলও ম্যান্ডেটরি।
যারা একটা এক্সট্রা ডিগ্রি হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, পড়েন, জ্ঞান অর্জন করেন কিন্তু ভাইবেন না যে, আপনার কওমি সার্টিফিকেটের সঙ্গে প্রাইভেটের একটা সার্টিফিকেট মিললে ঘাটতি পুষিয়ে যাবে।
হ্যাঁ, যদি কোথাও শুধু যোগ্যতা বলে আপনাকে ডাকে, তখন সার্টিফিকেট ইস্যু হবে না, কিন্তু যেখানে সার্টিফিকেট চাইবে, সেখানে এ সব সার্টিফিকেটের দুই পয়সার মূল্য থাকবে না—বুঝে রাইখেন।
লেখক: তরুণ আলেম ও অ্যাক্টিভিস্ট

