স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাংবাদিকতায় ট্রমা-স্ট্রেস’ বিষয়ক সেশন শুরু
Advertisement
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে ‘সাংবাদিকতায় ট্রমা-স্ট্রেস’ বিষয়ক সেশন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গুলির শব্দ, দুর্ঘটনার দৃশ্য, রক্তাক্ত মানুষ কিংবা স্বজনের কান্না, অন্যের জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোই অনেক সময় সাংবাদিকের ক্যামেরায় উঠে আসে। কিন্তু সেই দৃশ্য ধারণ করতে করতে সাংবাদিকের নিজের ভেতরে যে চাপ বা ট্রমা তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয় তুলনামূলক কম। এবার সেই বিষয়টিই জায়গা করে নিয়েছে সাংবাদিকতা শিক্ষার আলোচনায়।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সাংবাদিকতা বিভাগে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘সাংবাদিকতায় মানসিক চাপ ও ট্রমা ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ছয় দিনব্যাপী সেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রমে ট্রমা ও স্ট্রেস নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সুইডেনের লিনিয়াস ইউনিভার্সিটির ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের এজাইল প্রোগ্রামের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কার্যক্রমের প্রথম দিনের দুই ঘণ্টার সেশনে মানুষের ট্রমা ও স্ট্রেস অনুভব করার বিভিন্ন কারণ ও উৎস নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেশনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন, এমএইচপিএসএস বিশেষজ্ঞ এবং লিভিং উইথ ওয়েলনেস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিস মাহমুদা।
আলোচনায় উঠে আসে, স্ট্রেস মানেই সবসময় নেতিবাচক কিছু নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্ট্রেসের ইতিবাচক দিকও থাকতে পারে। তবে কোন পরিস্থিতিতে স্ট্রেস তৈরি হয়, এর উৎস কোথায় এবং তা একজন মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, এসব বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
শুধু বক্তার আলোচনা নয়, সেশনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয় শিক্ষার্থীদেরও। তাদের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়। দলীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই স্ট্রেসের সম্ভাব্য কারণ ও উৎসগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। এতে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও বিষয়টি বোঝার সুযোগ পান তারা।
উদ্বোধনী পর্বে সঞ্চালনা করেন বিভাগের প্রভাষক ফারিশতা সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে স্বাগত ও অনুষ্ঠান সম্পর্কে বক্তব্য দেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সহকারী অধ্যাপক শবনম জান্নাত। এছাড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ভাইস-চ্যান্সেলর।
বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর তার পেছনের দিনের সাংবাদিকতার স্মৃতিচারণ করে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন।
সকালের আলোচনা শেষে বিকালে আরও একটি সেশন পরিচালিত হয়। দ্য ডেইলি স্টার'র স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ দীপ্ত সেশনটি পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি তার সাংবাদিকতা জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে স্ট্রেস নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ দেন।
সাংবাদিকতা যেখানে প্রতিদিন মানুষের সংকট, সংঘাত ও দুর্যোগের গল্প তুলে ধরে, সেখানে সেই গল্পের পেছনে থাকা সাংবাদিকের মানসিক চাপও যে গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম দিনের সেশনে সেই বাস্তবতাই সামনে এসেছে।
৫ ঘণ্টার এই সেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ছয় দিনব্যাপী কার্যক্রমের প্রথম দিনের আয়োজন।

