বাবলা হত্যার পরিকল্পনার অডিও ভাইরাল
আরও যাকে হত্যা করতে চান পলাতক বড় সাজ্জাদ
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩২ পিএম
বাবলা-বড় সাজ্জাদ। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের একের পর এক অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হচ্ছে। সেসব কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবার অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে কেবল বাবলাকে দেখিয়ে দিলেই ২০-২৫ লাখ টাকা দেওয়ার অফার দেয় বড় সাজ্জাদ। শিবির নাসিরকে গুলি করে নয়; ইট দিয়ে বুকে আঘাত করলেই মারা যাবে বলেও জানায় সে। বড় সাজ্জাদের টার্গেটে ২৬ বছর জেল খেটে বের হওয়া নাসিরও রয়েছে বলে অডিও ভাইরাল হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে। বড় সাজ্জাদের সঙ্গে অজ্ঞাত যুবকের কথোপকথনের অডিও পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো:
সাজ্জাদ আলী খান : ইতারে সেটিং করায় দাও না, টাকা ২০ লাখ নিয়ে যেও। টাকা আধা ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছাই দিবো। নিয়ে যেতে যতক্ষণ লাগে।
অজ্ঞাত যুবক : ভাই আপনাকে একটি কথা বলি। আমার টাকা লাগবে না। শুধু আপনি একটু দেখলে হবে। আমাকে একটু দেখবেন।
সাজ্জাদ আলী : প্রশাসনিক এত ঝড়ের মধ্যেও আমি ছেলেদের (তার অনুসারী) কীভাবে দেখতেছি তুমি উপলব্ধি করতে পারছো। প্রশাসন একতরফাভাবে আমাদের বিরুদ্ধে। এত ছেলে (অনুসারীরা) গ্রেফতার হওয়ার পরও ছেলেরা বের হচ্ছে কীভাবে। মুরাদপুর হোক, যেখানেই হোক-বসাই দিবা। কাজ হলে ২০ লাখ টাকা দিয়ে দিবো। ২০ লাখ টাকা গিফট করবো যে। ২০-২৫ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি হলে গাড়ি কিনে দিবো। আমি সবকিছু সহ্য করতে পারি। মুনাফেকি সহ্য করতে পারি না।
অজ্ঞাত যুবক : ইতে (সে) আমাকে মেরে আপনার নাম দিবে।
বড় সাজ্জাদ : ইতারা আইঁ প্যান্ট পরা শিখাইয়ি (তাকে আমি প্যান্ট পরা শিখাইছি)। ইতে কি হামের আইঁ জানি (সে কোন কাজের আমি জানি)। তার জন্য এক পোয়া মবিল। আজ পর্যন্ত কোন ফ্যামিলিকে সে ন চায়। বেশিত ১০ হাজার টাকা দিবো দে। তার জন্য এত ছেলে মরল। সে কোন পরিবারকে দেখেনি। পরিবার বেশি দিলে ১০ হাজার টাকা দিবে।
অজ্ঞাত যুবক : ওই সময় যদি মারি মরে যেতাম। তোর বিয়েতে যেভাবে নাচ’র। আমি মরে গেলেও ওইভাবে নাচতো আরকি। বউকে জোর করে ১৫ ভরি স্বর্ণ কিনে দিচ্ছে। কী অবস্থা।
বড় সাজ্জাদ : ঘরের মানুষ ঘরত চলি আইয়ু। মুরাদপুর বহদ্দারহাট যেতাইন গিয়া লাগে লও। আমার ছেলে-পুলে নিয়ে যা মনে হয় গরো। তোয়াঁর আরও শক্তি অঁইবো। ইতার ঘটনার পর আর হন ঘটনা নেই। শুধু পয়সা কামাইবাদে ঘরের মানুষ ঘরে চলে আস। মুরাদপুর-বহদ্দারহাট যা কিছু লাগে নাও। আমার ছেলেদের নিয়ে যা খুশি কর। তোমার শক্তি আরও বাড়বে। ওর সঙ্গে ঘটনার পর আর কোনো ঘটনা নেই। শুধু টাকা আয় করা ছাড়া।
বুকে আঘাত করলে নাছির মরে যাবে : সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের আরও একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ওরফে শিবির নাছিরকে লক্ষ করে বড় সাজ্জাদকে বলতে শোনা যায়, ‘নাছিরকে গুলি করতে হবে না, একটি দোভাঙা ইট দিয়ে বুকে আঘাত করলে মরে যাবে।’
অজ্ঞাত যুবক : আঁরা চিন্তা ভাবনা গরছি যে ইতার বাড়ি ভিডিও করবো। শিবির নাছিরকে থাপড়াবো আর ভিডিও করবো, আমার নিউজ করাবো। ইনদি মোজারগ্যা ওগ্গা আছে ইতে মানুষের অস্ত্র বিক্রি গরিবো হই টিয়া লই হায় ফেলায়। পুরো চক্রটি একটি টাউট (আমি চিন্তা করছি শিবির নাছিরের বাড়ি ভিডিও করবো। থাপড়াবো। আমি নিউজ করাবো। এদিকে মোজাহের নামে এক লোক আছে। সে মানুষের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির করবে বলে টাকা নিয়ে খেয়ে ফেলে। পুরো চক্রটি একটি টাউট)। মোজারগ্যার কত বড় সাহস আমি বলে মুরাদপুর থাকতে পারবো না।...
নাসির উদ্দিন চৌধুরী ওরফে শিবির নাসিরও বড় সাজ্জাদের পরবর্তী টার্গেট বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়টি সামনে আসছে। দীর্ঘ ২৬ বছর জেল খেটে বের হন নাসির। ৬৫ বছর বয়সে বিয়ে করে তিনি এখন ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। তবে তাকে টার্গেট করার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন নাসির। তিনি যুগান্তরকে বলেছিলেন, ‘বড় সাজ্জাদকে আমি ভালোভাবে চিনিও না। জেলখানায় একবার দেখা হয়েছিল। আর কোনোদিন কথাও হয়নি, দেখাও হয়নি। এসব ফেক নিউজ। আমি কেন টার্গেট হব।’
বাবলা হত্যায় নতুন কোনো গ্রেফতার নেই : সরোয়ার হোসেন বাবলা গত ৫ নভেম্বর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চালিতাতলী এলাকায় নিহত হন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি গণসংযোগে অংশ নিয়ে বাবলা খুন হন। ওই সময় প্রার্থী এরশাদ উল্লাহও গুলিবিদ্ধ হন। বড় সাজ্জাদের নির্দেশেই ছোট সাজ্জাদের অনুসারী ভয়ংকর সন্ত্রাসী রায়হান সহযোগীদের নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। বড় সাজ্জাদের অডিও রেকর্ডগুলো ওই ঘটনার আগে ও পরের বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
বাবলা হত্যার ঘটনায় তার বাবা আবদুল কাদের বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিদেশে পলাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ এবং তার বাহিনীর কিলিং স্কোয়াডের প্রধান হিসাবে পরিচিত রায়হান আলমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

