হিমালয়ের হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত
এসএ মাহমুদ সেলিম, পঞ্চগড়
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হিমালয় থেকে বয়ে আসা কনকনে হিমেল হাওয়া এবং ঘন কুয়াশার দাপটে সর্ব-উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে জনজীবন সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় পঞ্চগড়সহ পুরো এলাকার জনজীবন যেন স্থবির হয়ে পড়েছে।
আর বিরূপ এ আবহাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এই জনপদের নিম্নআয়ের খেটেখাওয়া মানুষ।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া কেন্দ্রের তাপমান যন্ত্রে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯ টায় ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গত মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ।
এদিকে মঙ্গলবার ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত ছিল পুরো এলাকা। বৃষ্টি বিন্দুর মতো ঝরছে কুয়াশা। মঙ্গলবার সার দিনই আকাশ ছিল ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়া আর মেঘে ঢাকা।
পঞ্চগড় অবস্থানগত কারণে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রতি বছরেই মাত্রাতিরিক্ত ঠান্ডা অনুভূত হয়। দিনের বেশীর ভাগ সময়ে পুরো এলাকা থাকছে ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত। অনুভূত হচ্ছে কনকনে শীত। অধিকাংশ গ্রামের বেশির ভাগ পথেই সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। নেহায়েত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র লোকজন শীত থেকে রক্ষা পেতে খড়কুটা জ্বালিয়ে শরীরে কোনোমতে একটু উঞ্চতা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কগুলোতেও যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যারা দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য মহানন্দা, করতোয়া ও ডাহুক নদীতে ঠান্ডা পানিতে নেমে পাথর সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে; তারাই বেশি বিপাকে পড়েছে। নদীর পানি বরফের মত ঠান্ডা হওয়ায় সেখানে নেমে পাথর উত্তোলন করতে পারছে না। ফলে তাদের জীবিকায় টান পড়েছে।
এছাড়া পঞ্চগড়ের কয়েক শতাধিক চা বাগানে কর্মরত চা শ্রমিক যাদের কাকডাকা ভোরে ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে চা পাতা তুলতে হয় তারাও চরম বিপাকে পড়েছে।
