Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

ফেঞ্চুগঞ্জে কুরকুছি খাল খননে দায়সারা কাজ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

Icon

ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

ফেঞ্চুগঞ্জে কুরকুছি খাল খননে দায়সারা কাজ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

Advertisement

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুরকুছি খাল খনন করে মাটি ফেলা হচ্ছে খালের পাশেই। এতে খালটি পুনরায় ভরাটের শষ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে খননকাজের অর্থ অপচয় হচ্ছে বলে জানান তারা।

স্থানীয়রা জানান, যেভাবে খাল খনন করছে, তা কৃষকদের কোনো উপকারে আসবে না। বৃষ্টি শুরু হলেই পাড়ের মাটিতে খাল ভরে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

জানা যায়, কুরকুছি খাল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রাম থেকে সোনাপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় সোয়া চার কিলোমিটার খাল খনন, ব্লক নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাফি এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী, খালের দুই পাশে ৭ মিটার করে ঢাল (স্লোপ) তৈরি এবং তলদেশ ১ মিটার গভীর খনন করার কথা। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের পশ্চিম পাড় ভেঙে পূর্বপাড়ে চর সৃষ্টি হয়ে বড় একটি বাঁক তৈরি হয়েছে। যে বাঁকে স্রোতের তোড় আঘাত পেয়ে পশ্চিম পাড়ে ভাঙন দেখা দেয়। ওই চর কেটে খালের গতিপথ সোজা করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। বরং ভাটির দিকে গিয়ে প্রশস্ত দেখাতে খালপাড় কেটে  গ্রামের ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে। এতে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।

মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারী বলেন, আমাদের বাড়িঘর ও কবরস্থান খালের ভাঙনে বিলীন হয়েছে। মরহুম সুনু মিয়া, জিয়াদের বাড়ি এই খালে হারিয়ে গেছে। সাংবাদিক ফরিদ উদ্দীন, মাছুম মাস্টারের বাড়ির পিছনের অংশ খাড়া হয়ে ভেঙ্গে গিয়েছে। এসব ভাঙ্গনের জন্য এই চরই মূল কারণ। যা স্রোতকে পাড়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী ১ মিটার গভীরতা বৃদ্ধি, ৭ মিটার করে দুইপারে স্লোপ এবং চর-বাঁক কেটে খাল সোজা করার দাবি জানান।

মল্লিকপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন জানান, নানা অনিয়মের অভিযোগে খাল খনন কাজ পরিদর্শনে এসে খনন কাজে নিয়োজিত লোকদের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক করে যান। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকেরা তাদের মনমতো কাজ করে যাচ্ছে।  

এ বিষয়ে ঠিকাদার পক্ষের নিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এক্সকাভেটর আসা–যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরি করা প্রয়োজন। তবে স্থানীয়রা এটিকে নিয়মবহির্ভূত কাজ বলে দাবি করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী গত বছরের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হওয়ায় বর্ষার আগে তা সম্পন্ন করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

মল্লিকপুর ও সোনাপুর এলাকার বেশ কয়েকজন জানান, পানির গতিপথ সোজা করা না হলে প্রতি বছরই খালে ভাঙ্গন হবে। স্রোতের তোড় যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়ে সোজা চলে যেতে পারে এ ব্যবস্থা না করলে এসব খনন কাজ কোন উপকারে আসবে না। হয়ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করে বৃষ্টির অপেক্ষা করতেছে। যাতে কাজ না করে বৃষ্টির অজুহাতে বিল তুলে নিতে পারে।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে খাল খনন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে যে খালের সঠিক সীমানা, গভীরতা ও প্রস্থ নির্ধারণ করা হয়, নকশা, শিডিউল করা হয় তখনই ভুল ছিল। সরেজমিনে প্রয়োজনীতা দেখে ও  স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে চর বাঁক কাটা সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

সিলেটের সৌন্দর্যে অস্বস্তি কাটানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ

সিলেটের সৌন্দর্যে অস্বস্তি কাটানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ

প্রবাসীদের এনআইডি ও ভোটাধিকার জটিলতা নিরসনের দাবি

প্রবাসীদের এনআইডি ও ভোটাধিকার জটিলতা নিরসনের দাবি

সিলেটে এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, ফেল করেছে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী

সিলেটে এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, ফেল করেছে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী

এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড দুজনের যাবজ্জীবন

এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড দুজনের যাবজ্জীবন

লগি-বৈঠার তাণ্ডবের বিচার দাবিতে সিলেটে জামায়াতের মিছিল

লগি-বৈঠার তাণ্ডবের বিচার দাবিতে সিলেটে জামায়াতের মিছিল

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা নারীর মৃত্যু, তামাবিল দিয়ে লাশ হস্তান্তর

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা নারীর মৃত্যু, তামাবিল দিয়ে লাশ হস্তান্তর

আরও পড়ুন

রহস্যজনক ভূমিকায় বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

৪৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ২১৫ গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম