বিএনপির যৌথ সংবাদ সম্মেলন
সাবিরা মুন্নী হেরেছেন তৃণমূলের অনাস্থায়
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
ঝিকরগাছা প্রেস ক্লাবে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত ১১ মার্চ দৈনিক যুগান্তরে ‘হেরেছি পদধারী নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতায়’ শিরোনামে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নীর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়।
ওই সাক্ষাৎকারে সাবিরা সুলতানা মুন্নী দাবি করেন, ঝিকরগাছা-চৌগাছার পদধারী নেতা ও মনোনয়নবঞ্চিতদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি ভোটে পরাজিত হয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি দুই উপজেলার শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনকালীন ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
তার সাক্ষাৎকারের পালটা জবাব দিতে রোববার ঝিকরগাছা প্রেস ক্লাবে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপি। বিএনপি নেতাদের দাবি, দলের নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা নয়, মুন্নী পরাজিত হয়েছেন তৃণমূলের অনাস্থা ও তার অহংকারের কারণে। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে দলের নেতাদের দোষারোপ করছেন মুন্নী। সাক্ষাৎকারে কাল্পনিক, মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ করেছেন মুন্নী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুণ বলেন, সাবিরা সুলতানা মুন্নী প্রার্থী হওয়ায় তার যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রশ্নে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কাছে সমূহ পরাজয়ের আশঙ্কায় দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি। সাবিরা সুলতানা দলীয় মনোনয়ন পেয়েও সন্দেহ প্রবণতায় তিনি নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হন। দলীয় একাধিক মনোনয়ন বঞ্চিতসহ দলের সাবেক তিনবারের সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক প্রবীণ নেতা মর্তোজা এলাহী টিপুসহ নির্বাচনি মাঠে নেতাকর্মীদের সন্দেহের চোখে দেখতে থাকেন। এ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের কাছে বিএনপি প্রার্থীর পরাজয়ের আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রেক্ষাপট বিবেচনায় চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ও তারুণ্যনির্ভর ৫৩ জন গুরুত্বপূর্ণ পদধারী নেতার স্বাক্ষরিত লিখিত সুপারিশ দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড বরাবর দাখিল করা হয়। সেই কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আস্থাহীনতা, সন্দেহপ্রবণতা, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন দলীয় প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নী। নির্বাচনে নিজের সীমাহীন ব্যর্থতায় পরাজিত হয়ে দলীয় হাইকমান্ডের সহানুভূতি পেতে তিনি এখন বিএনপির জনপ্রিয় জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বিষাদগার ও চরিত্র হনন করে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদান করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা লিপ্ত রয়েছেন। সংবাদপত্রে তার দেওয়া সাক্ষাৎকারটি অকৃতজ্ঞতার চরম বহিঃপ্রকাশ ও নির্লজ্জ মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়।
সাবিরা সুলতানা মুন্নীর কঠোর সমালোচনা করে ইমরান সামাদ নিপুণ বলেন, প্রার্থী পরিবর্তন না হওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে সংসদীয় আসন পুনরুদ্ধারের নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হই; কিন্তু নির্বাচনে এমপি পদে প্রার্থিতা দাবি করায় দলীয় প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নী নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করেন। তিনি নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকেই মূলধারার নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে নাজমুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের ব্যানারে তার কতিপয় বিশ্বস্ত ও পছন্দের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। মিথ্যা অভিযোগ করে ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বহিষ্কারের হুমকি, ধমকি দেওয়া হয়েছে; যা নেতাকর্মীরা ভালোভাবে নেননি।
লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, সাবিরা সুলতানা মুন্নী বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠেন। নিজের ক্ষমতা প্রমাণে পরিবারের বিতর্কিত সদস্যসহ অযোগ্য লোকদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করেন। তার হঠকারী সিদ্ধান্তে উপজেলা কমিটিতে সদস্য পদও পাননি অনেক ত্যাগী ও প্রবীণ নেতা। এ পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা ও স্থবিরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নির্বাচনে পরাজয়ের এটিও একটি কারণ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিনের অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ও থানা পুলিশের নগ্ন হস্তক্ষেপে দলীয় কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করা হয়। সেই ঘটনায় দলের সিনিয়র নেতাদের চরম অপমান ও অপদস্থ করা হয়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যার সুদূরপ্রসারি প্রভাব পড়ে সদ্যসমাপ্ত জাতীয় এই নির্বাচনে। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে মুন্নী নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপাতে চেষ্টা করেন; যা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এছাড়াও সাবিরা মুন্নীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতা, স্বামী নাজমুল ইসলামের হত্যার পুনঃতদন্তের বিষয়ে নীরবতার অভিযোগ তেলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মর্তোজা এলাহী টিপু, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসানসহ ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নী বলেন, যা সত্য তাই আমি সাক্ষাৎকারে বলেছি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যেই তারা স্বীকার করে নিয়েছেন নির্বাচনে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করেছেন। তারা একটি সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক চক্র। যারা সব সময়ই বিশেষ বিশেষ সময়ে দলের বিপক্ষে কাজ করেন। ৫ তারিখের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে কাজ করেছেন। ৫ আগস্টের পরে এলাকায় চাঁদাবাজি দখলবাজি মাদকসহ নানা অপকর্মে জড়িতদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। আমি নির্বাচিত হলে, তাদের অনৈতিক কাজে বিঘ্নতা ঘটার সম্ভাবনা দেখেই তারা আমার বিরোধিতা করেছেন। শাক দিয়ে কখনও মাছ ঢাকা যায় না। নিজেদের অপকর্মের দোষ ঢাকতে যতগুলো নেতা এক জায়গায় হয়েছেন, ধানের শীষের ভোট করতে তারা কখনো একসঙ্গে হননি।
