ছুরি হাতে স্কুলের ভেতর বিএনপি নেতার ছেলে, অতঃপর...
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
আতঙ্কিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনার চাটমোহরে বিএনপি নেতার মাদকসেবী ছেলেকে ভিডিও ধারণ করতে বাধা দেওয়ায় ছুরি নিয়ে শিক্ষার্থীদের তাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়ন হোসেন (৩২) নামের ওই যুবক পুরো স্কুলে তাণ্ডব চালায়।
এ সময় স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দ্বিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে স্কুল গেটে তালা লাগিয়ে কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পান সবাই। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ভয়ে ও আতঙ্কে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এদিকে স্কুলের বাইরে এলাকার শত শত মানুষ জড়ো হলে তাদেরও ছুড়ি ও কাঁচি নিয়ে ভয় দেখাতে থাকে নয়ন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে উত্তেজিত লোকজন নয়নকে আটকের দাবিতে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে চড়ইকোল বাজারে ঘোরাঘুরি করতে দেখলে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত নয়নকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়।
সরেজমিন জানা যায়, বুধবার বিকালে স্কুলমাঠে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলার অনুশীলন করাচ্ছিলেন কয়েকজন শিক্ষক। এ সময় ওই স্কুলে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চড়ইকোলা পূর্বপাড়া গ্রামের কোফিল উদ্দিনের ছেলে নয়ন প্রবেশ করে মোবাইলে নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও করতে থাকে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভিডিও করতে নিষেধ করলে নয়ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় শিক্ষকরা বাধা দিতে গেলে মাদকসেবী নয়ন স্থানীয় বাজার থেকে ধারালো ছুরি ও কাঁচি নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের তাড়া করে।
অপরদিকে একই স্কুল বাউন্ডারির মধ্যে চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। একপর্যায়ে মাদকসেবী নয়নের তাণ্ডবে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ঢুকিয়ে দেন এবং স্কুল গেটের তালা দিয়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচেন। এ সময় ওই দুই স্কুলে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
এ ব্যাপারে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কোফিল উদ্দিন বলেন, আমার ছেলেকে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছিলাম; কিন্তু বেশিদিন লেখাপড়া করতে পারল না। আমার এলাকায় তো প্রতিপক্ষের অভাব নেই। তারা আমার ছেলেকে গাঁজা, মদসহ অন্যান্য মাদক খাইয়ে এ অবস্থা করে দিয়েছে। এখন আর ছেলেকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আইনগতভাবে যেটা হয় সেটাই হোক।
স্কুলের সহকারী শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, মেয়েরা তাকে (নয়ন) ভিডিও করতে নিষেধ করেছিল। আমরাও তাকে নিষেধ করি ও সেখান থেকে চলে যেতে বলি। তখন সে প্রথমে লাঠি দিয়ে হামলার চেষ্টা করে। তাকে বাধা দেওয়ায় পরে ছুরি, কাঁচি এবং শিকল নিয়ে এসে আবারও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হামলার চেষ্টা করে। আমরা শিক্ষার্থীদের স্কুলের ভেতরে রেখে প্রধান ফটক আটকে দেই।
খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা করে নয়ন। এতে আমাদের স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল গণি বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করে। তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চাটমোহর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, শিক্ষকরা থানায় এসেছেন। শিক্ষকদের এজাহার দিতে বলা হয়েছে। নয়ন হোসেন নামের অভিযুক্ত যুবককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলমান। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

