ধর্ষণের শিকার হয়েছিল সেই স্কুলছাত্রী, বিদ্যালয়ের দপ্তরি গ্রেফতার
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা হোসেন ইমাম। প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুষ্টিয়ার মিরপুরে স্কুল থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অচেতন অবস্থায় উদ্ধার সেই শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা হোসেন ইমাম।
তিনি বলেন, মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে মিরপুর থানায় ধর্ষণের মামলা করেছেন শিশুটির মা।
মামলায় ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলার একমাত্র আসামি হামিদুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
জেনারেল হাসপাতালের আরএমও হোসেন ইমাম বলেন, মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তার শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গেছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের মেডিকেল অফিসার সুষ্মিতা বিশ্বাস বলেন, মেয়েটির শরীরের কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহৃ দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, মিরপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। সে ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। শিশুটিকে রাতেই প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুটির পরিবার জানান, বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানে অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও ছিল। বিকাল তিনটার দিকে অনুষ্ঠান শেষে সবাই বাড়ি ফিরে গেলেও ওই শিশু বাড়ি ফিরছিল না। পরে তার খোঁজে নামেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে শিশুটির পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিদ্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ দেখতে বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে অনুরোধ করেন।
শিশুটির মামা বলেন, দপ্তরিকে শ্রেণিকক্ষগুলোর তালা খুলে দেখার কথা বললে তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। বরং উদ্ধত আচরণ করেন। একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে শ্রেণিকক্ষগুলোয় তল্লাশি চালানো হয়। নিচতলার তালা খুলে দোতলায় গিয়ে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আরেক তলায় গিয়ে মেয়েটির স্যান্ডেল পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরীকে মামলা করার আগেই থানা হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। মামলা করার পর একমাত্র আসামি দপ্তরিকে গ্রেফতার দেখানো হয়।


