একাধিক রাজনৈতিক মামলায় পলাতক
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েবের ওপর হামলা, নেপথ্যে কারা
Advertisement
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
সোয়েব আহমদ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও একাধিক রাজনৈতিক মামলার পলাতক আসামি সোয়েব আহমদের ওপর সিলেটে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সোয়া ৯টার দিকে সিলেটের উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
তবে হামলার বিষয়টি চার দিন পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেয়েছে। সোয়েবের মাথা ও শরীরে আঘাতের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সাবেক চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি সরব থাকতে দেখা গেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আহমদ রিয়াজকে। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করেছেন; যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও সোয়েবের পরিবার বলছে, কে বা কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা তারা এখনো নিশ্চিত নন।
সোয়েব আহমদের স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি সোয়েব আহমদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথা, ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে রাত প্রায় ২টার দিকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার চিকিৎসা করানো হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে সোয়েব আহমদের ছোট ভাই বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেহ আহমদ জুয়েল বলেন, কারা এ হামলা করেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আল্লাহতায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে এবং সবার দোয়ায় তিনি (সোয়েব আহমদ) এখন আশঙ্কামুক্ত।
তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি প্রকাশ করতে চাননি তারা। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে পরিবার আবেগাপ্লুত।
এদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলামসহ বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা।
