যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীকে বিয়ে করে নাগরিকত্ব, ২য় বিয়ে করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন বর
Advertisement
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক নারীকে বিয়ে করে সে দেশের নাগরিকত্ব (গ্রিনকার্ড) পাওয়ার পর তাকে ডিভোর্সের আবেদন করেন স্বামী সৈয়দ কাওছার আলী (৪৫)। এরপর দেশে ফিরে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গেলে বিষয়টি জানতে পেরে আমেরিকা থেকে ছুটে আসেন প্রথম স্ত্রী।
থানায় তার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে গেছে আমেরিকা প্রবাসী ওই বরের দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন।
ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারে। দ্বিতীয় বিয়ের কনের পরিবারের অভিযোগ—বরপক্ষ প্রথম বিয়ের তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তবে বরপক্ষের দাবি, কনেপক্ষকে মার্কিন আদালতের আদেশে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের বিষয়টি আগেই জানানো হয়েছিল। আলোচিত এই বর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ধাইসার গ্রামের সৈয়দ চেরাগ আলীর ছেলে সৈয়দ কাওছার আলী।
প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে রাজনগরের ধাইসার গ্রামের সৈয়দ কাওছার আলীর সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বরমান গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী আমিনা বেগমের (৫৫) বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীকে আমেরিকায় নিয়ে যান আমিনা বেগম। সেখানে কয়েক বছর আগে স্থায়ী বসবাসের (গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্ব) অনুমোদন পাওয়ার পরই সৈয়দ কাওছার আলী স্ত্রী আমিনা বেগমকে ডিভোর্স দেওয়ার আবেদন করেন।
আমিনা বেগমের ছোট ভাই মো. আইয়ুব আলী বলেন, আমার দুলাভাই আপাকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ দেশে চলে আসেন। দেশে এসে দুলাভাই গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টা করছেন—এমন খবর পেয়ে আপা তাৎক্ষণিক দেশে ছুটে আসেন। শুক্রবার মৌলভীবাজারে নালিহুরী গ্রামে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন আপা।
এদিকে দেশে এসে সম্প্রতি মৌলভীবাজারের নালিহুরী গ্রামে কাওছার আলীর দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হয়। শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য রান্নাবান্না ও বর্ণাঢ্য সাজসজ্জাও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু প্রথম বিয়ের খবর জানার পর কনেপক্ষ কাওছারের সঙ্গে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
কনেপক্ষের অভিযোগ, আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে কাওছার আলী প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। এতে তারা প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবন অনিশ্চয়তায় ফেলাসহ সামাজিকভাবে তাদের চরম সম্মানহানি করা হয়েছে। এছাড়া গত ১৬ অক্টোবর বিকালে কনের বাড়িতে গিয়ে বর সৈয়দ কাওছার আলী ও তার ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কনের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ।
কনের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, কাওছার আলী আগে বিয়ে করেছিলেন, সে তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। প্রথম স্ত্রী থানায় অভিযোগ করার পর আমরা পুরো ঘটনা জানতে পারি। আমাদের সঙ্গে কাওছার ও তার স্বজনরা চরম প্রতারণা করেছে। আমরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অপূরণীয় সামাজিক ক্ষতির শিকার হয়েছি।
তবে বরপক্ষের দাবি, আমিনা বেগমের সঙ্গে তাদের একটি চুক্তির ভিত্তিতে বিয়ে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে মার্কিন আদালতের মাধ্যমেই তাদের আইনগত ডিভোর্স সম্পন্ন হয়। নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে কনের স্বজনদের এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য আগেই জানানো হয়েছিল।
অভিযুক্ত সৈয়দ কাওছার আলীর বড় ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের আগের বিয়ে হলেও আমেরিকায় আইনগতভাবে ডিভোর্স হয়ে গেছে। কিন্তু এখন এই বিয়ে পণ্ড করতে মিথ্যা অভিযোগ তুলে থানায় গেছেন আমিনা বেগম। আমরা আমেরিকায় ডিভোর্স সংক্রান্ত সকল বৈধ কাগজপত্র মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশের কাছে জমা দিয়েছি।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিপু কুমার দাস বলেন, আমিনা বেগমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিয়ে বাংলাদেশে রেজিস্ট্রি হলেও তারা আমেরিকায় ডিভোর্স হওয়ার কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
