নোয়াখালীতে মাদক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদক বিরোধকে কেন্দ্র করে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিমের (১৬) মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. হারুনকে (৩৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলায় সাতজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরাদিঘী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল জানান, হাজেরাদিঘীর পেছনের একটি পুলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা চলছিল। পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামের এক মাদকসেবীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানান। এরপর স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ওই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে পাহারার ব্যবস্থা করেন। এতে কয়েক দিন সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধ ছিল।
তিনি আরও জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে আলী হায়দার ফাহিম (১৮), রিফাত (২০), সাকিবসহ কয়েকজন বায়তুন আমান মসজিদসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আলী হায়দার ফাহিমকে বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
নোবেল বলেন, ফাহিম ওই দিন সন্ধ্যায় নানার বাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামের বেলাল মাস্টারের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ ৭-৮ জন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তার বাম পায়ে গুরুতর আঘাত লাগলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
নিহতের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, আমার আর কিছু বলার নেই। আমি আমার ছেলেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেনবাগ থানার এসআই মনির মিয়া। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকারের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
