বড়লেখা সীমান্তে থামছে না বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
বড়লেখা সীমান্তে থামছে না বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মৌলভীবাজারের বড়লেখার সীমান্তজুড়ে যেন ওতপেতে বসে রয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। কিছুতেই থামছে না তাদের পুশইন অপচেষ্টা।
গত কয়েক দিন থেকে দিনে এবং রাতে বড়লেখার পাল্লাথল, নিউ পাল্লাথল, লাতু, গান্ধাই, বোবারথল ও উত্তর ষাটঘরী সীমান্ত দিয়ে অর্ধশত মানুষকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ।
রোববার সকাল থেকে বিএসএফ পুশইন করতে ১০-১২ জনের একটি দলকে নিয়ে ষাটঘরী এলাকায় জিরো লাইনের ওপাশে ওতপেতে থাকে। বিকাল পর্যন্ত বিজিবির মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বিএসএফের মিশন সফল হয়নি।
বড়লেখা উপজেলার এসব এলাকা অত্যন্ত দুর্গম, পাহাড়ি ঘন জঙ্গলপূর্ণ এবং ভারতীয় সীমান্ত পরিবেষ্টিত হওয়ায় এসব সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ রোববার বিকাল পর্যন্ত গত ১ সপ্তাহে ২০-৩০ বার পুশইনের চেষ্টা করলেও বিজিবির বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়লেখা, জুড়ী ও বিয়ানীবাজার উপজেলার ১১৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে পুশইন ঠেকাতে বিজিবিকে আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে দিনরাত্রি সীমান্ত টহল কয়েকগুণ বৃদ্ধি করতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিএসএফ পুশইন চেষ্টায় নানামুখী অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
সীমান্তবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্তের চতুর্দিকে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, সার্চলাইট স্থাপন ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করে বিএসএফ ভারি অস্ত্র, দূরবীক্ষণ মেশিন, টেলিযোগাযোগ, পরিবহণ সুবিধা সবই বৃদ্ধি করে পুশইন কাজে মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাত হলেই এ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষদের জড়ো করে বাংলাদেশ প্রবেশমুখে নোম্যান্স ল্যান্ডের কাছে বন-জঙ্গলের ভিতর লুকিয়ে রাখছে। পরে গভীর রাতে সুযোগ বুঝে ওই সব মানুষদের বাংলাদেশ অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
দিনের চেয়ে রাতে বিএসএফের সার্চ লাইটে সীমান্ত আলোকিত হয়ে ওঠে। আবার পুশইনকালে সেই আলো ক্ষণিকের জন্য বন্ধ করে দেয়। এ কারণে পুশইন ঠেকাতে এখন বিজিবি সীমান্তে বিএসএফের সার্চ লাইটের দিকে সতর্কতার সঙ্গে বাড়তি নজর দেওয়া শুরু করেছে।
বিজিবি পালাক্রমে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রামবাসীকে নিয়ে ২৪ ঘণ্টা সর্তক টহল ও পুশইন ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে বিএসএফের অপচেষ্টা মোকাবিলা করে চলেছে। সীমান্তে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। সীমান্তজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট, বাঙ্কার। সন্দেহজনক চলাচলের ওপর রাখা হচ্ছে সার্বক্ষণিক নজরদারি।
৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান জানান, ৫২ বিজিবির আওতাধীন ১১৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে পুশইন ঠেকাতে দিনরাত্রি সীমান্ত টহল কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
