কাতারে নিহত ৫ বাংলাদেশির লাশ আসছে মঙ্গলবার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীর লাশ মঙ্গলবার দেশের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাটে আসছে।
সোমবার রাতে কাতার থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে লাশগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তা পৌঁছার কথা রয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর।
এদিকে আগামী জুলাইয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল নিহত কাদির আহমদের। অন্যদিকে মাত্র দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে কাতার ফেরা নিহত জুবের আহমদ রেখে গেছেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমানবন্দরে লাশ গ্রহণের জন্য নিহতদের স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের আকুনি মাদ্রাসা মাঠে নিহত পাঁচ প্রবাসীর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় কাজের উদ্দেশ্যে কাতারের দোহা থেকে একটি প্রাইভেটকারে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান কানাইঘাটের পাঁচজন। সবাই কানাইঘাটের বাসিন্দা হওয়ায় পুরো উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন- ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ। কাতার ট্র্যাজেডির পর নিহতদের পরিবার এখনো শোকে স্তব্ধ। এ দুর্ঘটনায় এক ভারতীয় চালক নিহত হন।
জানা গেছে, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে চার বছর আগে কাতার যাওয়া কাদির আহমদের (৩৩) আগামী মাসে প্রথমবার দেশে ফেরার কথা ছিল। সড়ক দুর্ঘটনা তার সব স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। মাত্র দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে কাতার ফিরেছিলেন জুবের আহমদ (২৮)। যার বাবা মরা মিয়াও ১২ বছর আগে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। জুবেরের বাড়িতে এক সন্তান ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাশের অপেক্ষায়।
এছাড়া নিহত দুই সন্তানের জনক জসিম উদ্দিনের (৩৮) বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। উপার্জনক্ষম একমাত্র মানুষটিকে হারিয়ে তার পরিবার এখন যেন অনিশ্চয়তার অথৈ সাগরে ভাসছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী লাশ দেশে আনার সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশ দিয়েছেন।
