স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, অপমান-নির্যাতনে বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
বালিয়াডাঙ্গী থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৬) অপহরণ ও ধর্ষণের পর তার বাবাকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়। এছাড়া বখাটেদের অনবরত নির্মম নির্যাতন, হুমকি এবং লোকলজ্জার মুখে পড়ে অবশেষে নিজ বাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই ছাত্রীর অসহায় বাবা।
এ ঘটনায় রোববার রাতে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামিসহ জড়িতরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
যেভাবে অপহরণ ও পাশবিক নির্যাতন
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম কিশোরীটি স্থানীয় এটি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বেশ কিছুদিন ধরে একই এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করাসহ অবৈধ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। স্কুলছাত্রী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সাইফুল ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণের নীলনকশা তৈরি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন সকাল ১০টার দিকে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে স্কুলের পাশের রাস্তা থেকে আসামিরা জোরপূর্বক তাকে একটি অটোচার্জারে তুলে অপহরণ করে ঠাকুরগাঁও রোডের কাছাকাছি নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কিছু সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে মেয়েটির জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে একটি অজ্ঞাত আস্তানায় নিয়ে গিয়ে লম্পট সাইফুল ইসলাম তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাশবিক ও জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
প্রতিবাদ করায় হাত-পা ভেঙে দেওয়ার বর্বরতা
কৌশলে আসামিদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এরপর মেয়ের ওপর হওয়া এই চরম অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে লম্পট সাইফুলের বাড়িতে যান ওই ছাত্রীর বাবা; কিন্তু আসামিরা উল্টো হুমকি দিয়ে বলেন- মেয়েটির স্বাক্ষর দিয়ে তারা বিয়ের জাল কাবিননামা তৈরি করেছে। আইনি পদক্ষেপ নিলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে বলে ওই ছাত্রীর বাবাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এখানেই ক্ষান্ত হয়নি বখাটেরা। মেয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো হুমকির মুখে পড়া ওই ছাত্রীর বাবা গত ২ জুলাই বিকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে কাঁচারাস্তায় পৌঁছামাত্রই ওতপেতে থাকা আসামিরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রধান আসামি সাইফুল লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ওই ছাত্রীর বাবার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ৩ নম্বর আসামি মানিক হোসেন পিঠ ও কোমরে মারাত্মক জখম করে। ওই ছাত্রীর বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাইফুলের ভাই ফরহাদ ওরফে কোম্পানী (৪০) তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় আসামিরা হুমকি দিয়ে বলেন- খুব শিগগিরই তোমার মেয়েকে জোর করে আমাদের বাড়ি নিয়ে আসব, বাধা দিলে লাশ গুম করে ফেলা হবে।
উপর্যুপরি মেয়ের ওপর বর্বর নির্যাতন, নিজের পঙ্গুত্ব এবং আসামিদের অনবরত প্রাণনাশের হুমকিতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন ওই ছাত্রীর বাবা। অবশেষে সমাজ ও লম্পটদের এই পৈশাচিকতার বিচার না পেয়ে রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সবার অগোচরে নিজ বসতবাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি ইন্সপেক্টর মো. বুলবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা রুজু করা হয়েছে।
