ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২৫ গ্রাম প্লাবিত
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২৫ গ্রাম প্লাবিত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টানাবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ইসলামপুর ইউনিয়নের মোকাবিলা এবং গঙ্গানগর নামক দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এতে ইসলামপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামসহ উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কমলগঞ্জ-আদমপুর সড়কে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে।
পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টায় ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান সকাল ১০টায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
জানা যায়, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টায় ইসলামপুর ইউনিয়নের মোকাবিলা এলাকায় এবং বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে একই ইউনিয়নের গঙ্গানগরে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে দুটি ভাঙন দেখা দেয়। এতে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় ইসলামপুর ইউনিয়নের ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, শ্রীপুর, মোকাবিলা, কোণাগাঁওসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে এলাকার ফসলি জমি ৩-৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং পুকুর ও ফিশারির মাছ বানের জলে ভেসে গেছে।
আরও জানা যায়, উজানের এই ঢলে আদমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোড়ামারা, বন্দেরগাঁও, ভানুবিল, উত্তরভাগ, জালালপুরসহ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে পানিবন্দি মানুষজন গবাদিপশুসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ধলাই নদীর পানি ইতোমধ্যে দুপুর ২টায় বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আগেই সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কাজ করার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তির কারণে নির্ধারিত পরিসরে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে যতটুকু এলাকায় কাজ করা গেছে, কেবল সেই অংশেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামপুরের বন্যার্তদের মাঝে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন স্থানীয় ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান এবং সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা ওমর ফারুককে সঙ্গে নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় ইউএনও বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মাঝে দ্রুত ত্রাণ বিতরণের সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
