মেয়ের সামনে পিতাকে গুলির পর কুপিয়ে হত্যা
Advertisement
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নুরুল আজিম প্রকাশ আজম (৪০) পেশায় একজন দর্জি (টেইলর)। তিন ছেলেমেয়ে, স্ত্রী ও মাকে নিয়ে কোনোরকমে চলছিল তার জীবন জীবিকা। এর মধ্যে সকালে ছোট মেয়েকে নিয়ে বৃষ্টির পানিতে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে যান। বিলে মাছ ধরার সময় এলাকার দিদার নামে এক ব্যক্তিসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে (আজম) প্রথমে গুলি করে ও পরে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ৮নং মেখল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মেখল খলিফাপাড়া এলাকার পার্শ্ববর্তী একটি বিলে এ ঘটনা ঘটে।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ৯নং ওয়ার্ড এলাকার মেম্বার সৈয়দ নেজাম উদ্দিন।
খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহত আজম ওই এলাকার মৃত মো. ইসলামের পুত্র। পৌরসভার মাদ্রাসার সামনে জেলা পরিষদ মার্কেটে সেলিম টেইলার নামে তিনি একটি দর্জি দোকান করতেন।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালের দিকে আজম তার বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে যান। ছোট মেয়ে তার সঙ্গে ছিল। সেখানে দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় আজমের। একপর্যায়ে ওই দুই ব্যক্তি ধারাল অস্ত্র দিয়ে আজমকে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দিদার পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত আজমের স্ত্রী ও বড় মেয়ে জানান, মূলত পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য আজমের চাচাতো ভাই মো. আলী ও তার ছেলে দায়ী। তারা স্থানীয় সন্ত্রাসী দিদারকে অর্থ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধারাল অস্ত্র ব্যবহার করে আজমকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
তারা আরও জানান, এর আগেও তারা বেশ কয়েকবার আজমের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। সে (আজম) চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত রমজানে এবং ঈদের পরে দুইবার তাকে পিটিয়ে জখম করেছিল। ওই সময় আমরা নিরুপায় হয়ে থানায় একটি মামলা করেছিলাম; মামলাটি এখনো চলমান। আমরা এখন কাকে নিয়ে এ দুনিয়াতে বাঁচব। আমাদের পরিবারের সদস্য তথা আমাদের ভরণপোষণ কিভাবে চলবে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহত আজমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দিদার ও জড়িতরা পলাতক রয়েছেন।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী তারেক আজিজ জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পায়ে গুলি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানোর আঘাত পাওয়া গেছে।
তিনি আর জানান, ঘটনার পর থেকে মামলার প্রধান আসামি দিদারুল আলম ও জড়িতরা পলাতক ছিল। এরমধ্যে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এজাহার নামীয় ৩নং আসামি আলী আকবরকে মেখল এলাকা থেকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
