মৌলভীবাজারে পানিবন্দি ১৭ হাজার মানুষ, ২ লাশ উদ্ধার
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
মৌলভীবাজারে পানিবন্দি ১৭ হাজার মানুষ, ২ লাশ উদ্ধার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অতি বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলায় মনু নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। জেলার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়নের মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় ১৬ হাজার ৭শ মানুষ এবং ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে শুক্রবার সকালে রাজনগর উপজেলার আকুয়া এলাকার রিং বাঁধের পাশ থেকে আশরাফ আলী নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। মৃত আশরাফ ওই এলাকারই বাসিন্দা। এদিকে বিকালে টেংরা ইউনিয়ন থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীতে ভাঙনের ফলে ৩টি ইউনিয়নের ৭-৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাজনগর উপজেলায় মনু নদীর বাঁধ ভাঙনে টেংরা, কামারচাক, মনসুরনগর ও পাঁচগাঁও, কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডি, সদর, হাজিপুর ও শরীফপুর এবং সদর উপজেলার মনুমুখ, কামালপুর, আখাইলকুড়া, চাঁদনীঘাট, কনকপুর ও পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৯৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আশ্রয় কেন্দ্র চালুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে পুরো জেলায় ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজপাড়া দাখিল মাদ্রাসা এবং কনকপুর ইউনিয়নের শাহবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যাদুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। পরে তিনি রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু নদীর চাঁদনীঘাট অংশে বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীতে ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, পানির চাপ কমে আসছে। আশা করা যায় ২-১ দিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাবেল জানান, জেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয় ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জরুরি বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
