ফি না দেওয়ায় পরীক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহেশপুরে পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বলিভদ্রপুর গ্রামের বিআরএকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে একই সঙ্গে ওই পরীক্ষার্থীর দুটি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে এটিই প্রথম নয়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিন ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যায়। পরীক্ষা শুরুর আগে সহকারী শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন তার কাছে পরীক্ষার ফি চান; কিন্তু রাফিন পরীক্ষার ফি আনেনি বলে জানালে শিক্ষিকা তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যান।
এ সময় প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলাম ফি না দিলে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে রাফিনকে বের করে দেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রাফিনকে রোববার সকালে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসেন স্কুলের শিক্ষকরা। পরে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার সঙ্গে; দিতে না দেওয়া পরীক্ষাটিও নিয়ে নেওয়া হয়।
ওই স্কুলের অপর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, ওই দিন আমার নাতিকেও পরীক্ষা দিতে দেওয়া হচ্ছিল না। পরে আমি স্কুলে গিয়ে নাতিকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করি; কিন্তু এ সময় একই কারণে রাফিনকে বের করে দেওয়া হলে সে স্কুল থেকে চলে যায়।
রাফিনের বাবা চঞ্চল হোসেন বলেন, আমি ছেলের পরীক্ষার ফি দিতে পারিনি। যে কারণে বৃহস্পতিবার পরীক্ষা দিতে না দিয়ে আমার ছেলেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পরে রোববার স্যাররা বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে নিয়ে গেছেন। শুনেছি একই সঙ্গে আমার ছেলের দুটি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে ওই প্রধান শিক্ষক এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।
তবে প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাফিন নামের ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ খান বলেন, বিষয়টি জানার পর ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে নিয়ে এসে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে বিদ্যালয়ে যাব।
