বাল্যবন্ধুর চোখে নুরুল ইসলাম
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা দোয়া-মিলাদ ও মোনাজাত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘ছোটবেলা থেকেই অদম্য সাহসী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। তার মধ্যে ছিল জয়ী হওয়ার প্রচন্ড জেদ। আর সততা, নিষ্ঠা এবং খাঁটি দেশপ্রেমের কারণে তিনি সাফল্যের উচ্চশিখরে পৌঁছতে পেরেছেন।’
যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা দোয়া-মিলাদ ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলছিলেন তার বাল্যকালের বন্ধু আনোয়ার মোড়ল।
সোমবার ১৩ জুলাই দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বর্ধনপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে এক স্মরণসভার আয়োজন করেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
একই দিন দোহার নবাবগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের প্রায় সব এতিমখানা ও মাদ্রাসায় নুরুল ইসলামের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এ সময় মরহুমের কবর জিয়ারত, স্মরণসভা, মিলাদ ও দোয়া এবং হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় দেশের শিল্প খাতের অগ্রদূত, সফল স্বপ্নসারথি এই আপসহীন উদ্যোক্তাকে।
স্মরণসভায় আনোয়ার মোড়ল বলেন, আমরা একসঙ্গে নবাবগঞ্জ উপজেলার চূড়াইন তারিণী বামা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়া-লেখা করেছি। নুরুল ইসলাম কখনই পরাজয়কে মেনে নিতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, একবার স্কুলে হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন করেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। তখন নুরুল ইসলাম সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং প্রথম রাউন্ডে হেরে প্রচণ্ড সাহস আর শক্তি খাঁটিয়ে পরবর্তী দুই রাউন্ড জিতে চ্যাম্পিয়ন হন এবং আমাকে বলেন- আনোয়ার জীবনে উচ্চশিখরে উঠতে হলে সৎ ও সাহসী হতে হবে। অন্যথায় পিছিয়ে পড়তে হবে।
আনোয়ার মোড়ল বলেন, সেই সঙ্গে নুরুল ইসলামের মধ্যে ছিল গভীর দেশপ্রেম। নিজের একক চেষ্টায় তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন তার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। শেষ বয়সেও অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, নুরুল ইসলাম শুধু এই দোহার-নবাবগঞ্জের সম্পদ ছিলেন না; তিনি ছিলেন দেশের এক সাহসী যোদ্ধা, তাকে হারিয়ে আজ আমরা এতিম।
স্থানীয় টিপু মিয়া, খলীলুর রহমান, এমএ মজিদ ও আয়নাল চৌধুরী বলেন, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ছিলেন দেশের শিল্প খাতের একজন অনন্য এবং সফল উদ্যোক্তা। যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানে ফলিয়েছেন সোনা। এক পা, দুই পা ফেলে এগিয়েছেন অনেকদূর। গড়েছেন বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান। সৃষ্টি করেছেন লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। অনেক উদ্যোক্তাকে দেখেছি ট্রেড বেজড ব্যবসা করতে। শিল্পে যেতে চাইতেন না। এক্ষেত্রে নুরুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি ট্রেড নয়, সরাসরি শিল্পে প্রবেশ করেছেন। এতে দেশে অনেক কর্মসংস্থান হয়েছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন ঠিকই কিন্তু কখনো এক টাকাও ঋণখেলাপি ছিলেন না। এমনকি মৃত্যুকালে তিনি এক টাকাও ওভারডিউ পর্যন্ত রেখে যাননি। অথচ তার থেকে অনেক ছোট উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেননি। সেই কারণে আজ বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণে ডুবতে বসেছে ব্যাংকিং খাত।
তারা বলেন, নুরুল ইসলাম শুধু খেলাপিমুক্ত না- একাধারে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও খেলাপি ঋণের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। কখনো কোনো দুর্নীতিবাজের সঙ্গে সমঝোতা করেননি। ছিলেন আপসহীন। তার সৃষ্টি দৈনিক যুগান্তর সাহসী কলম এবং যমুনা টিভি সাহসী কণ্ঠ হয়ে সব সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। সাধারণত পত্রিকার মালিকরা গা বাঁচিয়ে চলেন; কিন্তু নুরুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রম। এজন্য তাকে অনেক মূল্যও দিতে হয়েছে। সব সময় চাপে থাকতেন।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৩ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নুরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেন। পরের দিন ১৪ জুলাই রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আপসহীন এই যোদ্ধা।
