বিশ্বনাথে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা!
নদী-খাল দখলে-দূষণে বিলীন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ
আশিক আলী, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটের বিশ্বনাথে প্রধান কয়েকটি নদী-খাল দখল ও দূষণে বিলীন হয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা একেবার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সম্ভাবনাময় বন্যায় ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদী ও খালগুলো বিলীন হয়ে বন্ধের কারণে প্রতি বছর বন্যায় জলাবদ্ধতার কারণে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
গত ২০২২ সালের বন্যায় জনবহুল সড়ক ও রেললাইন ভেঙে সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে রেললাইনটি দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরেও সংস্কার কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও ২০২৪ সালের বন্যায় একইভাবে কৃষি, গরু, হাঁস ও মুরগির খামারে জনসাধারণের ক্ষতি হয়েছে প্রায় কোটি টাকার। যদি নদী ও খাল দখলমুক্ত করে খনন করা হতো, তাহলে প্রতি বন্যায় সরকার ও জনসাধারণের এমন ভয়াবহ ক্ষতি হতো না বলে মনে করছেন অনেকেই।
সম্প্রতি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে সিলেটের প্রধান দুই নদীর পানি। প্রতিবারই সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেই বিশ্বনাথে বন্যা দেখা দেয়। আর এ বছর সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বনাথেও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, পানি বহনকারী নদী আর খালগুলো দখলে-দূষণে বিলীন হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, বাসিয়া নদী, মাকুন্দা নদী ও চরচন্ডি নদী পৌর শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে দখল করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ব্যবসা বা ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্যন করছেন দখলদাররা। ফলে বন্যার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা একেবার বন্ধ হয়ে পড়েছে। তবে গত ২ মে বাসিয়া নদীর খনন কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নদীটির খনন কাজ উদ্বোধনের পর সেই খনন কাজ যদিও বন্ধ রয়েছে, তারপরও জনসাধারণের মধ্যে একটি আশার সঞ্চারণের সৃষ্টি হয়েছে; কিন্তু চরচন্ডি নদী ও মাকুন্দা নদীটি দখলমুক্ত না করায় দুটি নদী আজ মরা নালায় পরিণত হয়েছে।
এদিকে বিশ্বনাথ পৌরসভার বাসিয়া নদী থেকে শুরু হয়ে মাকুন্দা নদী পর্যন্ত সড়ক ও জনপদের বিশাল খালটি দখলদাররা দখল করে অস্তিত্বই রাখেননি। বিশ্বনাথ পৌরসভার থেকে শুরু করে রামপাশা বাজার পর্যন্ত খালটি মাঝে মধ্যে একটু আধটু দৃশ্যমান থাকলেও বিশাল এই খালটিতে মাত্র ৩ ফুট প্রশস্তের ড্রেন করে পুরুটাই দখলদারদের পেটে চলে গেছে।
এছাড়াও অলংকারি ও খাজাঞ্চি ইউনিয়নে বহমান ‘বড়খাল’ নামের বিশাল খালটিও দখলে বিলীন হয়ে মৃত প্রায়। এলাকাবাসীর দাবি খালটি উদ্ধার করে খনন করা হলে কৃষিসহ বন্যার কবল থেকে এলাকার মানুষ রক্ষা পাবে। এসব খাল ও নদী বিলীন হওয়ায় বৃষ্টির পানিও নিষ্কাশন হয় না। ফলে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয় কৃষকের কষ্টের ফসল ধান।
দখল হওয়া নদী ও খালগুলো বেঁচে থাকলে বন্যার পানিতে সরকার ও জনসাধারণের তেমন ক্ষতি হতো না বলে জানান ‘হাওড় বাঁচাও আন্দোলন’ কমিটির আহ্বায়ক সাজিদুর রহমান সুহেল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসক মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, দখল হওয়া নদী ও খালগুলো উদ্ধার করে খননের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
