যৌতুকের টাকা না পেয়ে বরের কাণ্ড
তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুরের বদরগঞ্জে কনের বাবার কাছে যৌতুকের টাকা না পেয়ে বিয়ে করতে না আসার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। যদিও বরযাত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের আপ্যায়নের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কনেপক্ষ।
এ ঘটনায় সোমবার (১৩ জুলাই) কনের বাবা রংপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেন।
কনের বাবার অভিযোগ, বিয়ের আগে আট লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে আসছিল বরপক্ষ। সেই দাবি করা টাকা না দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে বিয়ে করতে আসেননি তারা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে কনের বাড়ি। দুপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে রোববার (১২ জুলাই) তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের এক যুবকের সঙ্গে ওই কনের বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়।
বিয়ের দিন বরযাত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের আপ্যায়নের জন্য সব প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্নও করে কনেপক্ষ। কিন্ত বর ও বরযাত্রীর জন্য অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা আসেননি। এ সময় কনের পরিবারের লোকজন একাধিকবার বরপক্ষের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাড়া পায়নি। পরে কনেপক্ষের কয়েকজন বরের বাড়িতে গিয়ে দেখেন তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। পরে অন্য মাধ্যমে বরের লোকজন বিয়ের যৌতুক হিসেবে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও তিন লাখ টাকার ঘরের আসবাবপত্র না দেওয়া পর্যন্ত বিয়ে হবে না বলে জানান। এ সময় কনেপক্ষের লোকজন গভীর রাত পর্যন্ত বিয়ে সম্পন্ন করতে বিশেষ অনুরোধ করেও রাজি করাতে পরেনি। শেষ পর্যন্ত বর না আসায় বিয়ে হয়নি।
কনের বাবা বলেন, ‘আল্লাহ, মোর মেয়েটার ভাগ্যে এখন কী হইবে। মেয়ের গায়ে হলুদ হয়েছে। এখন সমাজের মানুষ কী বলবে!’
অভিযোগ অস্বীকার করে বরের বাবা বলেন, যৌতুকের কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা তো এক টাকাও যৌতুক চাইনি। বিয়ে হবে দুপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে। কনের পরিবারের লোকজন পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর করতে চেয়েছিল। সেখানে আমরা এক লাখ টাকা দেনমোহর করতে বলেছিলাম। এটাই মূল ঘটনা। যদি যৌতুক চাইতাম তাহলে তারা যৌতুক হিসেবে কত টাকা দিয়েছে তা অভিযোগে বলেনি কেন। দেনমোহরের কারণেই ছেলে বিয়েতে যায়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় জানান, ইউএনও স্যারের নির্দেশে বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন বলেন, কনের বাবা রংপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

-6a57af2d978fc.jpg)