প্রেমের সম্পর্কে পালিয়ে বিয়ে, চার মাসেই জীবন দিতে হলো জুথিকে
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ পিএম
রাণীনগর থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে মাত্র চার মাস আগে পালিয়ে বিয়ে করেছিল জুথি আক্তার (২১); কিন্তু হাতের মেহেদির রং না মুছতেই জীবন দিতে হলো তাকে।
পারিবারিক কলহের জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খায় জুথি। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান তিনি। এ সময় জুথির লাশ হাসপাতালের বারান্দায় রেখে পালিয়ে যান স্বামী ও শ্বশুর।
মৃত জুথি আক্তার নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর মরুপাড়া গ্রামের প্রবাসী জয়নাল শেখের মেয়ে ও রাতোয়াল পূর্বপাড়া গ্রামের মোকাদ্দেছ আলী শুভর স্ত্রী।
এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ তুলে জুথির মা বাদী হয়ে জুথির স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে শুক্রবার বিকালে রাণীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও জুথির বাবার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাতোয়াল পূর্বপাড়া গ্রামের জিয়াউল হক জিয়ার ছেলে মোকাদ্দেছ আলী শুভর (২৩) সঙ্গে জুথির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্কে তারা দুইজন গত ১২ মার্চ পালিয়ে বিয়ে করেন। এরপর উভয়পক্ষ বসে পারিবারিকভাবে সমঝোতা করে আত্মীয়তা শুরু হয়; কিন্তু শুভ বেকার থাকায় প্রতিনিয়ত তাদের সংসারে ঝগড়া-ঝামেলা লেগেই থাকত। মাঝে মধ্যেই শুভ ও শুভর মা-বাবা জুথিকে নানাভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত এবং আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতেন।
জুথির মা আরজিনা বেগম জানান, মেয়ে এসব বিষয়ে আমাদের জানালে মেয়েকে ধৈর্য ধরে সংসার করার জন্য পরামর্শ দিতাম। ভাবতাম হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার আবারও মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। শেষপর্যন্ত মেয়েটি (জুথি) অপমান ও লজ্জা-শরমে লোকসমাজে মুখ দেখাতে না পেরে শ্বশুরবাড়িতে বিষাক্ত ট্যাবলেট খেয়ে বমি করতে থাকে। এ সময় দেখতে পেয়ে মেয়ের স্বামী-শ্বশুর জুথিকে প্রথমে রাণীনগর হাসপাতালে ভর্তি করায়। এ সময় শুভ মোবাইল ফোনে আমাকে জানালে আমি হাসপাতালে ছুটে যাই। এর মধ্যে মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় জুথি।
আরজিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মেয়ে (জুথি) মারা যাবার সঙ্গে সঙ্গে তার লাশ হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রেখে স্বামী ও তার শ্বশুর পালিয়ে যায়। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে আমি বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছি। সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, গৃহবধূ জুথির মৃত্যুর ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আর জুথির লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
