সদর দপ্তরের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও চলছে হরতাল, অচল ফটিকছড়ি উত্তর
Advertisement
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ এএম
ভোর থেকে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল করায় ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফটিকছড়ি অংশসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ঘোষিত টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তরাঞ্চলে জনজীবনে স্থবিরতা বিরাজ করেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) ভোর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করেন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের নেতাকর্মীরা। এতে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফটিকছড়ি অংশসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহণসংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই বালুটিলা, সোনাইপুল ও নারায়ণহাট এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পাশাপাশি দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় সীমিত পরিসরে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।
হরতালের কারণে ফেনী-খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজী দিঘি-হেয়াঁকো সড়কে বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক যানবাহন বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।
বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সকাল ৯টা পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ কিংবা আটকের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
আন্দোলনকারী শেখ জাহিদ বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় নেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি উপজেলা সদর রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
আরেক আন্দোলনকারী মাসুদ বলেন, উপজেলার নাম যখন ফটিকছড়ি উত্তর, তখন সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলে হওয়া উচিত। জনগণের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সদর দপ্তর স্থানান্তর করতে হবে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ যুগান্তরকে বলেন, পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জরুরি সেবাগুলো হরতালের আওতার বাইরে রয়েছে।
