মাদক-চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবির নিরাপত্তা বাড়বে: মহাপরিচালক
ফটিকছড়ি উত্তরে রামগড় ৪৩ বিজিবির ১৩তম বিওপি উদ্বোধন
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে বিজিবির নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের রহমতপুর সীমান্ত এলাকায় রামগড় ব্যাটালিয়নের (৪৩ বিজিবি) ১৩তম নতুন বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ফেনী নদীর অববাহিকা ও পার্বত্য ভূপ্রকৃতির কারণে রহমতপুর সীমান্ত এলাকা ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিজিবির স্থায়ী উপস্থিতি ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে। নতুন বিওপি প্রতিষ্ঠার ফলে ফেনী নদীপথ ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি পাবে, চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বাড়বে বিজিবির আভিযানিক সক্ষমতাও।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিজিবির উপস্থিতি আরও কার্যকর করার মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন ‘রহমতপুর’ বিওপি চালুর ফলে ফটিকছড়ি উত্তরের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচার প্রতিরোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা রামগড় ব্যাটালিয়নের (৪৩ বিজিবি) আভিযানিক সক্ষমতাও বাড়াবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ), গুইমারা সেক্টর কমান্ডার ও রামগড় ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, ১৭৯৫ সালে ৪৪৮ জন সৈনিক নিয়ে রামগড় এলাকায় তৎকালীন ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ গঠিত হয়েছিল, যা কালক্রমে বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হিসেবে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মানবপাচার, মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধেও কাজ করছে সংস্থাটি।
রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটালিয়নের আওতায় বর্তমানে দুটি অপারেশনাল সিআইও ক্যাম্প, ১৩টি বিওপি ও দুটি চেকপোস্ট রয়েছে। এর মধ্যে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় রয়েছে রহমতপুর, আন্ধারমানিক, পানুয়া, ছোট ফড়িংগা ও কয়লারমুখ বিওপি।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা মনির, মো. ফজলুল হক, মো. নুরুল হক, মো. নুরুল ইসলাম হুজুর ও মো. সালাউদ্দিন রুবেলসহ কয়েকজন বলেন, ফটিকছড়ি উত্তরের সীমান্তের কিছু অংশ দুর্গম ও পাহাড়ঘেরা। এসব এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদার করা সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা। নতুন বিওপি চালু হওয়ায় সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
