Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও বাংলাদেশে পুশইন, যা বললেন সেই ভারতীয় নারী

Advertisement

Icon

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ এএম

পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও বাংলাদেশে পুশইন, যা বললেন সেই ভারতীয় নারী

শাহিদা ফকির। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও ভারতীয় ঠিকানার তথ্য থাকার দাবি করলেও তা যাচাই না করেই শাহিদা ফকির নামে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা দাবি করা ওই নারী বর্তমানে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামে একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন। 

তার অভিযোগ, মুম্বাই থেকে আটক করে প্রথমে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয় তাকে, পরে বিমানে আসাম সীমান্তে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।

শাহিদা ফকির জানান, গত প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ভারতের মুম্বাইয়ে বসবাস করে আসছিলেন। চলতি মাসের ১৮ জুলাই রাতে স্থানীয় একটি বাজার থেকে সবজি ও রুটি কিনে বাড়ি ফেরার পথে সিআইডি পরিচয়ে ৪ থেকে ৫ জন তাকে আটক করে। তার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। সঙ্গে থাকা ভারতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথিপত্র দেখানোর চেষ্টা করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, এরপর তাকে মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন আটকে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সেখানে গেলেও সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পরে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নিয়ে কয়েকজনের একটি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন করা হয়। সীমান্ত পার হওয়ার পর দলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় তিনি বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।

শাহিদা জানান, তার স্থায়ী বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার গোবিন্দপুর গ্রামে। শ্বশুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে এক মাস আগে তার স্বামী মুম্বাই থেকে বাড়ি ফিরে যান। বর্তমানে তার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সি দুই সন্তান ভারতে রয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি ভারতের নাগরিক। গুগলে আমার গ্রামের নাম সার্চ করলেই বাড়ির সন্ধান পাওয়া যাবে। আমার দুই সন্তান ভারতে আছে। আমাকে আমার দেশে ফিরিয়ে দিন।

ভাদিয়ালি গ্রামের বাসিন্দা আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী আবুল বাশার ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে বেনাপোলে অসহায় অবস্থায় শাহিদাকে দেখতে পান।

তিনি বলেন, ওই নারীরর গায়ে কাদা-মাটি, জামাকাপড় ছেঁড়া, হাত-পা ফুলে ছিল। সে শুধু বলছিল—আমাকে একটু আশ্রয় দিন, আমার ছোট সন্তান আছে। মানবিক কারণে আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি আমাদের কাছেই আছেন।

আরিফা জানান, ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন সাংবাদিক তার খোঁজ নিয়ে গেছেন এবং সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ায় ওই নারীকে ভারতে ফেরানোর বিষয়ে উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি সত্য। তবে ওই নারী স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলারোয়া থানার ওসি এইচ এম শাহীন বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ঝগড়া থামাতে যাওয়ায় কাল হলো জাকারিয়ার

ঝগড়া থামাতে যাওয়ায় কাল হলো জাকারিয়ার

গাজী নজরুলের এমপি পদ কি শেষ পর্যন্ত থাকছেই?

গাজী নজরুলের এমপি পদ কি শেষ পর্যন্ত থাকছেই?

সাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

সাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

সাতক্ষীরায় বেড়িবাঁধে ভাঙন, শঙ্কায় ১০ গ্রামের মানুষ

সাতক্ষীরায় বেড়িবাঁধে ভাঙন, শঙ্কায় ১০ গ্রামের মানুষ

কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১১

কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১১

আরও পড়ুন

ব্যাংকে অডিট চলাকালে ম্যানেজারের আত্মহত্যা

ব্যাংকে অডিট চলাকালে ম্যানেজারের আত্মহত্যা

পাওনা টাকার বিরোধে মারধর, যুবকের মৃত্যু

পাওনা টাকার বিরোধে মারধর, যুবকের মৃত্যু

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড: সাত বছরেও রায় কার্যকর হয়নি, পরিবারের ক্ষোভ

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড: সাত বছরেও রায় কার্যকর হয়নি, পরিবারের ক্ষোভ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম