আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ৪ টাকা নির্ধারণের দাবি চাষি-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ৪ টাকা নির্ধারণের দাবি চাষি-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাম্পার ফলনের পরও আলু সংরক্ষণের খরচে কৃষকের মুনাফা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া কেজিপ্রতি ৪ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
চাষিরা মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলন করে আগামী মৌসুমে হিমাগার ভাড়া সর্বোচ্চ ৪ টাকা কেজিতে নির্ধারণের দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে চাষি ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন হিমাগার মালিকেরা অযৌক্তিকভাবে পুনরায় আলু সংরক্ষণে হিমাগার ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে চাষি-ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে প্রতি বস্তা (৬৫ কেজি) আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা। অথচ ২০২৫ সালে সেটি এক লাফে বাড়িয়ে ৪শ থেকে ৪৮০ টাকা উন্নীত করা হয়েছে। এমন অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধিতে চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আলু বিক্রি করে চাষিরা কোন লাভ তো করতে পারছেই না বরং হিমাগার ভাড়া মেটাতেই সব শেষ হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে চাষি ও ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, সরকারি সুপারিশ কমিটির কাছে হিমাগার পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যয়ের প্রকৃত কোন তথ্য-প্রমাণ কখনই দেওয়া হয়না। হিমাগার মালিকেরা কাল্পনিক পরিচালন ব্যয় দেখিয়ে বছর বছর আলু সংরক্ষণ ভাড়া বাড়িয়ে চলেছেন। এসব কারণে রাজশাহীর চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। পূঁজি হারিয়ে চাষিরা পথে বসেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়- গত বছর কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের পর আলু সংরক্ষণে হিমাগার ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। পরে জেলা প্রশাসন এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উদ্যোগে আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকায় বৈঠক হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় হিমাগারের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে সরকার সুপারিশ করে কৃষি মন্ত্রণালয়; কিন্তু রাজশাহীর হিমাগার মালিকরা সরকারের সেইসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে চাষিরা আরও বলেন, পরিস্থিতি এমন যেন রাজশাহীর হিমাগার মালিকেরা জমিদার, আর আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা তাদের প্রজা। জেলা প্রশাসন থেকে হিমাগার মালিকদের চিঠি দিয়ে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, বেতন ভাউচার, উপকরণ ক্রয়ের রসিদসহ বিভিন্ন প্রমাণ চাইলেও রাজশাহীর মালিকেরা তা সরবরাহ করেনি। ফলে একটা হিমাগার পরিচালনায় একজন মালিকের কী পরিমাণ ব্যয় হচ্ছে সেটা সরকার কোনোভাবেই জানতে পারছে না।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি আরও বলেন, প্রকৃত ব্যয় গোপন রেখে বা অতিরঞ্জিত ব্যয় দেখিয়ে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকরা শেষ হয়ে যাচ্ছে। চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আগামী মৌসুমে আলু সংরক্ষণ ভাড়া সর্বোচ্চ ৪ টাকা নির্ধারণ ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি করেন।
