কিডনি বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় মোবাইলে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাজু মিয়া (৩০) নামের এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিডনি বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় একটি সংঘবদ্ধ কিডনি পাচার চক্রের হাতে তিনি নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাহিনুর ইসলামকে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের ফাঁসিতলা হাটসংলগ্ন ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত ময়দার মিল থেকে লাজু মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত লাজু মিয়া কামারদহ ইউনিয়নের ফেলুপাড়া গ্রামের মৃত কাসেম মিয়ার ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত কুরবানি ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে পাশের বাড়ির মৃত হাফিজার রহমানের ছেলে এবং চিহ্নিত কিডনি বিক্রেতা শাহানুর রহমান (২৮) লাজুকে টার্গেট করে ভালো উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে যায়। তারপর কিডনি বিক্রেতা চক্র তাকে বশে আনার চেষ্টা করে; কিন্তু বিষয়টি বুঝতে পেরে নিহত লাজু সতর্ক হয়ে চলাফেরা করতে থাকেন। তবে কিডনি চক্রের সদস্য শাহিনুরও নাছোরবান্দা। সে তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে সে যেখানে থাকে সেখানে তাকে নিয়ে যায়। তবে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন যে তার ছেলে লাজু ঢাকায় শাহিনুরের সঙ্গেই রয়েছেন।
নিহতের মা লাচু বেওয়া জানান, শাহিনুর কোনো কাজ করতেন না। তিনি এলাকায় গরিব অসহায় মানুষ খুঁজে টাকার লোভ দেখিয়ে দেশের বাহিরে দালাল চক্রের হাতে বিক্রি করে দেয়। এভাবে সে গোবিন্দগঞ্জ ও পাশের জেলা জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলার অনেক গরিব মানুষকে ডেকে নিয়ে কিডনি বিক্রি করে দেয়। তারা বাড়িতে ফিরে এসে অসুস্থ জীবন যাপন করছেন। আবার কেউ কেউ অন্যকোনো কাজ ও চিকিৎসা করতে না পেরে মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের একাধিক ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ, ধুনট ও জয়পুরহাটের কয়েকটি থানায় মামলাও হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার ছেলেকেও তার কিডনি বিক্রির জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
নিহতের মা লাচু বেওয়ার আশ্বাসে কিডনি চক্রের হাত থেকে পালিয়ে দুই দিন আগে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন লাজু। এতে ওই চক্রের কাছে টার্গেট হয়ে যায়।
নিহতের মা লাচু বেওয়া বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ দুপুরের পর শাহিনুর নামের অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি স্বপন কুমার জানান, ঘটনার পেছনে কিডনি বেচাকেনা সংক্রান্ত কোনো লেনদেন বা শত্রুতা রয়েছে কিনা, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শাহানুরকে ঘটনার রহস্য সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে মুখ খুলতে রাজি হননি।
