ক্যানসার আক্রান্ত স্বামী-দুই সন্তান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গৃহবধূ
Advertisement
বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
চৌমুহনী চৌরাস্তা নোয়াখালী টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মমতা আক্তার পলি নামের এক গৃহবধূ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হামলা, বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট, দখলের পর নিরাপত্তাহীনতায় ক্যানসারে আক্রান্ত স্বামী ও দুই শিশু সন্তানসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মমতা আক্তার পলি নামের এক গৃহবধূ।
পরিবারটির অভিযোগ, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, এখন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
সোমবার দুপুরে চৌমুহনী চৌরাস্তা নোয়াখালী টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মমতা আক্তার পলি অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী হাজীপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নুরুল হক মিয়ার পুরাতন বাড়ির ফখরুল ইসলাম। তিনি ২০২৩ সাল থেকে ক্যানসার আক্রান্ত। তার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে ফখরুলের বড় ভাই ইলিয়াছের (৫৫)। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে গত বছর (২০২৫ সালে) তাদের স্বামী-স্ত্রীকে মারধর করে। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
ওই মামলায় জামিনে এসে অভিযুক্ত ইলিয়াছ ও তার সহযোগীরা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। যার ধারাবাহিকতায় গত ১৫ আগস্ট পিটিয়ে তার স্বামীর ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয় এবং তাকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়।
মমতা আরও অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা তার স্বামীর হাত ভেঙে দেওয়ার পর এ বিষয়ে থানায় মামলা করলেও পুলিশ কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এরপর তিনি স্বামীর চিকিৎসায় ছোট ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ির বাহিরে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় গত ২১ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় ইলিয়াছের নেতৃত্বে তার সাঙ্গোপাঙ্গরা বসতঘরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে তিনি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তাদের (পুলিশের) পরামর্শে ওই দিনই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন; কিন্তু এখনও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই নারী।
নারীর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. ইলিয়াছের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেনি।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, নারীর অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
