প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যা, মায়ের মামলায় বাবার মৃত্যুদণ্ড
মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:২২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবেশীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে নিজ হাতে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন বাবা। এ ঘটনায় শিশুর মায়ের দায়ের করা মামলায় বাবা শরীফ আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শরীফ আলী কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভানুবিল গ্রামের আরিফ মিয়ার ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর পূর্ব ভানুবিল গ্রামে নিজ বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাড়ে তিন বছরের শিশু রুনা বেগমকে ধারাল দা দিয়ে গলায় কুপিয়ে হত্যা করে তার জন্মদাতা বাবা শরীফ আলী।
পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুবিল গ্রামের শরীফ আলী তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নিজের সাড়ে তিন বছরের শিশুসন্তানকে হত্যা করে প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপান। বিষয়টি টের পেয়ে শরীফ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্ত্রী নেকজান বিবি।
পরবর্তীতে বাবা শরীফ আলী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে বিস্তারিত বিবরণ দেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালতের কাছে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১২ বছর পর আদালত আসামি শরীফ আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি তোফায়েল আহমদ জানান, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে খুন করেন শরীফ আলী। পরে স্ত্রীকে দিয়ে মামলা করালে তদন্তে শরীফ আলী ধরা পড়েন। তার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। সেই সঙ্গে অপরাধ করে কেউ পার পায় না- এটি প্রমাণিত হলো।
