পাবনার আল-মদিনা হাসপাতাল
অস্ত্রোপচারের পর ১২ রোগী যক্ষ্মায় আক্রান্ত
পাবনা ও ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ১২ রোগীর যক্ষ্মা সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর রোগীদের ক্ষতস্থানে জটিলতা দেখা দেয়। পরে পরীক্ষায় তাদের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় সোমবার ইউএনও উম্মে ইমামা বানিন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান শাওন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে এর অপারেশন থিয়েটার বন্ধ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
ফরিদপুর উপজেলার বনওয়ারিনগরের ভ্যানচালক মোহন আলী বলেন, গত ৩১ মে বনওয়ারীনগর বাজার সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে আমার পুত্রবধূ আয়েশা পুত্রসন্তান জন্ম দেন। তবে নির্দিষ্ট সময় পরও ক্ষতস্থান না শুকানোয় পরীক্ষায় যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। আয়েশার স্বামী গোলাম রাব্বি বলেন, আমার স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে এখন হিমশিম খাচ্ছি। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই হাসপাতালে আয়েশার মতো আরও ১০ নারীর সিজারিয়ান অপারেশনের পর যক্ষ্মার সংক্রমণ ঘটেছে। এছাড়া পিত্তথলির পাথর অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করার পর আরেকজনের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে।
ডা. রাশেদুল হাসান বলেন, মাসখানেক আগে ওই হাসপাতালে সিজার করানো কয়েকজন রোগী আসেন, যাদের ক্ষত শুকাচ্ছে না। বিষয়টি তখন ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তাদের আরও পরীক্ষায় যক্ষ্মা ধরা পড়ে। এছাড়া আরও কয়েকজন রোগী অন্য জায়গায় পরীক্ষা করলে তাদেরও একই রোগ শনাক্ত হয়। ওই ১২ রোগীর তালিকা পাবনা সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, আসলে কোনো রোগীর থেকে এই জীবাণু ছড়িয়েছে, সেটি বুঝতে পারছি না। তবে প্রায় চার মাস আগে আমাদের হাসপাতালে ৭৫ বছর বয়সী এক রোগীর হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তার অস্ত্রোপচারের পর ইনফেকশন দেখা দিলে পরীক্ষা করে তার যক্ষ্মা ধরা পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই রোগীর থেকে এই জীবাণু ছড়িয়েছে।
নিজেদের ভুল স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর সব অপারেশন বন্ধ রেখেছি। হাসপাতালের যন্ত্রপাতিসহ সব জিনিসপত্র জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি রোগীদেরকে আমাদের অর্থায়নে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আশিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
